

মুরগির খোঁয়ারের মতো দেখতে একটি জীর্ণ-শীর্ণ ঝুপড়িঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা অসহায় নূরজাহান বেগম অবশেষে পেলেনে মাথা গোঁজার ঠাঁই। দৈনিক কালবেলায় তার দুর্বিষহ জীবনের চিত্র প্রকাশের পর মানবিক উদ্যোগে বদলে গেছে তার জীবন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ফেসবুকভিত্তিক অনলাইন গ্রুপ ‘পীরগাছা বন্ধু মহল’ নূরজাহান বেগমকে একটি নতুন ঘর উপহার দেয়। একই সঙ্গে তাকে নতুন কাপড়, খাট, তোশক, বালিশ, কম্বলসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী দেওয়া হয়। এ ছাড়া নূরজাহানের এক মাসের বাজার খরচ বহনের দায়িত্বও নেয় গ্রুপটি।
নূরজাহান বেগম রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের সাতভিটা গ্রামের বাসিন্দা। বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। কৈশোরেই বাবা-মাকে হারান তিনি। বড় হওয়ার পর বিয়ে হলেও মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামীর মৃত্যুর পর আবারও নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এরপর থেকে খালাদের বাড়িতে আশ্রিত থেকে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে জীবন চালিয়ে আসছিলেন তিনি।
সপ্তাহখানেক আগে দৈনিক কালবেলার মাল্টিমিডিয়া ও অনলাইন সংস্করণে নূরজাহান বেগমের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচিত হলে তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় পীরগাছা বন্ধুমহল।
গ্রুপটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দৈনিক কালবেলার মাধ্যমে নূরজাহান বেগমের দুরবস্থার কথা জানতে পরে বিষয়টি তাদের মানবিকভাবে নাড়া দেয়। পরে সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও বিভিন্ন দাতার সহযোগিতায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই নতুন ঘর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করেন তারা। নূরজাহান বেগমের দুর্দশার কথা তুলে ধরায় তারা কালবেলার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সেই সঙ্গে সকল দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
নতুন ঘর পেয়ে নূরজাহান বেগম জানান, জীবনের এই বয়সে এসে তিনি এমন সহায়তা পাবেন কখনো ভাবেননি। তিনি পীরগাছা বন্ধু মহলসহ তার পাশে দাঁড়ানো সকলের জন্য দোয়া করেন।
স্থানীয়রা বলেন, একটি মানবিক সংবাদ যে একজন অসহায় মানুষের জীবনে কীভাবে আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে—নূরজাহান বেগম তার বাস্তব উদাহরণ। এই মানবিক উদ্যোগের জন্য তারা পীরগাছা বন্ধু মহল ও কালবেলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পীরগাছা বন্ধু মহলের প্রতিষ্ঠাতা মো. রবি জানান, ২০২৩ সালে ‘পীরগাছা বন্ধু মহল’ গ্রুপটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা ২৮ হাজার। দীর্ঘদিন ধরে তারা গরিব ও দুঃস্থদের নলকূপ প্রদান, ঘর নির্মাণ, মাসিক বাজার সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তাসহ নানা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
তিনি আরও জানান, এসব কাজে এলাকার তরুণদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে তরুণ সমাজ মানবিক ও সামাজিক কাজে দিন দিন আরও উৎসাহী হয়ে উঠছে।
মন্তব্য করুন