মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইবির শিক্ষিকা খুন : ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিহত শিক্ষিকা ও স্বজনদের আহাজারী। ছবি : কালবেলা
নিহত শিক্ষিকা ও স্বজনদের আহাজারী। ছবি : কালবেলা

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার শরীরে ধারালো কিছু দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ২০টির বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকেরা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে এ কথা জানান চিকিৎসকরা। এরপর পরিবারের কাছে আসমা সাদিয়া রুনার লাশ হস্তান্তর করা হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম নেতৃত্বে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয় । এ সময় তার সহযোগী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসা ডা. রুমন রহমান ও ডা. সুমাইয়া।

আরএমও হোসেন ইমাম জানান, নিহত শিক্ষিকার গলার নিচে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এতে গলায় গভীর ক্ষত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলেই মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও তার বুক, পেট, হাত-পাসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এতে মনে হয়েছে, ঘটনার সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। নিহতের হাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, ধারনা করা যায় ঘটনার সময় হাত দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন ওই তিনি। যেভাবে আঘাত করা হয়েছে তা দেখে মনে হয়েছে এটা ঘাতকের ক্ষোভ ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।

নিহত রুনার স্বজনেরা জানান, বুধবার রাতে স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান স্ত্রী হত্যার ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় এজাহার দাখিল করেন।

এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফজলুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যান বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিষ্টার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যামসুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।

নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতানের ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের পুরো পরিবার ধ্বংস করে দিল এই ঘাতক। রুনার সঙ্গে বিভাগের নানা আর্থিক বিষয়ে ফজলুরের দ্বন্দ্ব ছিল। বিভিন্ন সময়ে ঘাতক ফজলুর নানা বিষয়ে চাপ দিত। এ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ কেউ জানতো। এ নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। এত বড় ঘটনা কারও ইন্ধন ছাড়া ঘটতে পারে না। এত বড় সাহস হতে পারে না। পরিকল্পিতভাবে এই সবকিছু করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক জড়িত বলে আমরা মনে করি। এজন্য মামলায় তাদেরও আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি মো. মাসুদ রানা জানান, নিহত আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী চার জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ-প্রশাসনের একাধিক শাখা কাজ করছে।

মর্গের সামনে নিহত শিক্ষকের স্বজনেরা জানান, রুনার ছোট ছোট তিনটি মেয়ে একটি ছেলে রয়েছে। এদের মধ্যে দুটি বাচ্চা এখনও বুঝতে পারেনি তাদের মা আর বেঁচে নেই। ছোট বাচ্চার বয়স মাত্র দেড় বছর।

উল্লেখ্য, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হবিগঞ্জে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪০

রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী হাসপাতালে ভর্তি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে : মির্জা ফখরুল

প্রথমার্ধে কেপ ভার্দের গোলকিপারের দৃঢ়তায় গোল পায়নি স্পেন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার যানজট

বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক : কারও কাছে আশীর্বাদ, কারও কাছে অভিশাপ

আইএটি-বুয়েটের ‘এআই যুগে শিক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন’ বিষয়ক সেমিনার

বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিনামূল্যে স্পোর্টস মেডিসিন বোর্ড কনসালটেশন গঠন

শিক্ষা অফিসারদের গাফিলতিতে অনুদান থেকে বঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা

সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেননি মোজতবা খামেনি, কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র

১০

দাস বাণিজ্যের রুট থেকে বিশ্বকাপের মহামঞ্চে কেপ ভার্দের অভিষেক

১১

গ্রাহকদের জন্য সুখবর দিল ইসলামী ব্যাংক 

১২

‘ইসলামী ব্যাংককে আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে নতুন প্রতিনিধি’

১৩

৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা 

১৪

সংসদে নারীদের বোরকা-হিজাব নিয়ে মন্তব্য, হেফাজতের প্রতিবাদ

১৫

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প ও ভ্যান্স

১৬

৩ ঘণ্টা পর ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

১৭

শর্ত মানলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পাবে ইরান : ভ্যান্স

১৮

গণমাধ্যমে সত্যকে সত্য হিসেবেই তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

১৯

সিএমপির ৫ থানায় নতুন ওসি, ৮ পরিদর্শক বদলি

২০
X