

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিলগাতুয়া-প্রাগপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টাকে ঘিরে মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আড়াই বছরের শিশু সামাদসহ ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় রাত কাটাতে হচ্ছে।
পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাথানপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াসেদ আলীর ছেলে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), বড় ছেলে শিহাদ (১৭), মেজো ছেলে ইনজামুল (৮) এবং আড়াই বছরের শিশু সামাদ (২)।
এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার রফিকুল গাজীর পরিবারের ৩ সদস্য এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আফরোজা খাতুনের পরিবারের ৪ সদস্য রয়েছেন। তারা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে তারা ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নেয়।
জানা গেছে, তাদের ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে আটক করা হয়েছিল। পরে বিএসএফ তাদের বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বর্তমানে ওই ১২ জন ভারতের অংশে শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। খাবার ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার সংকটে বিশেষ করে শিশু ও নারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
পরিস্থিতির সমাধানে শুক্রবার বিকেল ৪টায় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও বিএসএফের গাফিলতি ও অসহযোগিতার কারণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি।
ফলে ১২ জনকে বাধ্য হয়ে সীমান্তেই রাতযাপন করতে হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার সকাল ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন গ্রহণ করা হবে না। বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।