চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

৪ হাজার সদস্য নিয়ে সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযান

সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান। ছবি : কালবেলা
সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান। ছবি : কালবেলা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা ও অবৈধ সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে বিশাল পরিসরে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল থেকে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের প্রায় ৪ হাজার সদস্যের সমন্বয়ে এই চিরুনি অভিযান শুরু হয়।

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল।

প্রশাসনিকভাবে সীতাকুণ্ড উপজেলার অংশ হলেও জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশপথ মূলত চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাস জমি দখল করে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।

যৌথবাহিনী আজ সকাল থেকেই এলাকাটির চারপাশ ঘিরে ফেলে এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে কঠোর তল্লাশিচৌকি বসিয়েছে। অতীতে একাধিকবার অভিযানে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলার শিকার হওয়ায় এবার ভিন্ন কৌশলে অগ্রসর হচ্ছে ৪ হাজার সদস্যের এই বিশাল বহর।

চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল সোমবার সকালে কালবেলাকে বলেন, অভিযানে যৌথবাহিনীর চার হাজার সদস্য রয়েছেন। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এই অভিযানকে ত্বরান্বিত করেছে। গত ১৯ জানুয়ারি অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের বাহিনীর হামলায় র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। ওই ঘটনায় ৪ জন র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হলেও পরে তাদের উদ্ধার করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এখানে ‘স্থানীয় সন্ত্রাসীদের’ তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।

গত বছরের ৪ অক্টোবর দুই পক্ষের (ইয়াসিন ও রোকন বাহিনী) গোলাগুলিতে একজন নিহত হন এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক। নিহত র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেবের জানাজায় অংশ নিয়ে র‍্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান জঙ্গল সলিমপুরে সমন্বিত যৌথ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

২০২২ সালে এই খাস জমি দখলমুক্ত করে সেখানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ ও ইকো পার্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল সরকার। তবে স্থানীয় দখলদার ও সন্ত্রাসী বাহিনীর বাধার মুখে বারবার উচ্ছেদ অভিযান ব্যাহত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা ক্যাম্প ও চেকপোস্ট’ বসানো হলেও অপরাধীদের দমানো সম্ভব হয়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, অভিযানের বিস্তারিত ফলাফল এবং গ্রেপ্তার বা উদ্ধারের তথ্য পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যৌথবাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনসিপিতে যোগ দিলেন বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্য : হালাল পণ্যে বড় সম্ভাবনা

ছেলের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা

মুক্তির আগেই সাফল্যের দুয়ারে ‘ককটেল ২’

ইসরায়েলে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

নারী-পুরুষের বৈষম্য কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার : মঈন খান

অতিরিক্ত ফাউলের অভিনয় করলে বিশ্বকাপে দেখতে হবে হলুদ কার্ড

ছাত্রলীগ নেতা ডেবিট আটক

ভারতের পুশইন নিয়ে ছাত্রদল নেতা আবিদের স্ট্যাটাস ভাইরাল

উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আ.লীগের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

১০

বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় মেসি

১১

জাকিরের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

১২

গুজব-ভুয়া কনটেন্ট রোধে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

জীবনের গল্প বলতে ওটিটিতে আসছেন মিম

১৪

বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি-গোঁফ কাটবেন না ইয়ামাল

১৫

এবার রামিসার পাশের বাসা থেকে আরেক শিশু নিখোঁজ

১৬

নিজেদের দল নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেন লাউতারো

১৭

বন্ধুর বিয়ে থেকে সোজা বিশ্বকাপ স্কোয়াডে

১৮

পাঁচ শিক্ষা বোর্ড ও এনসিটিবিতে নতুন চেয়ারম্যান

১৯

বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতে ফিরবে না কোনো দল

২০
X