ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভয়াবহ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে নীলফামারীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ঝড় ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি । ছবি : কালবেলা
ঝড় ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি । ছবি : কালবেলা

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় আকস্মিক দমকা ঝড় ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ১২টার পর শুরু হওয়া এই দুর্যোগে কৃষি খাতের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি বসতভিটা ও গাছপালারও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

উপজেলা সদরসহ গয়াবাড়ি, বালাপাড়া, পশ্চিম ও পূর্ব ছাতনাই, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি, নাউতারা, টেপাখরিবাড়ি এবং খগাখরিবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ দমকা হাওয়া শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে তা তীব্র ঝড়ে রূপ নেয় এবং সঙ্গে শুরু হয় বড় আকারের শিলাবৃষ্টি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একেকটি শিলার ওজন ছিল প্রায় ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম। যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অত্যন্ত বিরল ও ভয়াবহ।

এই শিলাবৃষ্টির আঘাতে আম ও লিচুর মুকুল ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ে। পাশাপাশি গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচ ও বিভিন্ন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই জমির ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচের ক্ষেত সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা ৫০ হেক্টর, গম ১০ হেক্টর, মরিচ ১২ হেক্টর এবং শাকসবজি ৩ হেক্টর জমি রয়েছে।

মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি এলাকার কৃষক আবুল কাশেম বলেন, তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যার বেশিরভাগই ঋণ। এক রাতের ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণ শোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

নাউতারা ইউনিয়নের সালহাটি এলাকার কৃষক আমিনুর রহমান ও সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, তারা ঋণ নিয়ে ফসল আবাদ করেছিলেন। হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে তাদের অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

উপজেলা সদরের হাবিবা নার্সারির পরিচালক শাহজাহান ইসলাম বলেন, তার নার্সারির চারা গাছ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা খুব কঠিন। সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।

স্থানীয়দের মতে, গত ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এত বড় আকারের শিলাবৃষ্টি এই এলাকায় দেখা যায়নি। অনেকের বসতঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, বীজ ও সার সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা দ্রুত পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, `ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষির পাশাপাশি অনেক পরিবারের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।'

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদি আরব / প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা

বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, গেটের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর

গভীর রাতে ফেলে যাওয়া কাফনের কাপড়ে আরবি হরফ ঘিরে রহস্য

বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে বড় হোঁচট খেল ব্রাজিল

রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২১ জন আটক

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ, পুলিশ বলছে আলামত নেই

মাঠে ফের লুটিয়ে পড়লেন এরিকসেন, জ্ঞান ফিরেছে হাসপাতালে

নগ্ন ভিডিও ধারণ করে পর্নোগ্রাফি, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

ইরাকে দুর্ঘটনার পর বাসে আগুন, হতাহত ৪০

সড়কে প্রাণ গেল শিশুসহ ২ জনের

১০

বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া প্রাইমকোডের ওপরই পিচ ডালাই

১১

১১ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

১২

আবার শুরু হবে লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা

১৩

বরিশাল ডিআইজির কার্যালয় থেকে এক জোড়া কালনাগিনী সাপ উদ্ধার

১৪

রেগে এনবিসির সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে গেলেন ট্রাম্প

১৫

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি আতঙ্ক

১৬

ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে চুক্তি করা উচিত : ট্রাম্প

১৭

এক ভূমিকম্পেই বাংলাদেশের সঙ্গে পাঁচ দেশে কম্পন

১৮

সোমবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১৯

২ ঘণ্টা কলম বিরতিতে যাচ্ছেন ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

২০
X