দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কৃষকের দুঃসহ লড়াই

ঝড়ের আগে ফসল রক্ষায় শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। ছবি : কালবেলা
ঝড়ের আগে ফসল রক্ষায় শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। ছবি : কালবেলা

হালকা রোদে ধান শুকিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার কৃষক নেপাল দাস। কিন্তু সেই স্বস্তি মুহূর্তেই রূপ নেয় আতঙ্কে। হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে ওঠে, শুরু হয় দমকা হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড়। মুহূর্তের মধ্যেই মাঠে (খলায়) শুকাতে রাখা ধান উড়িয়ে নিতে থাকে প্রবল বাতাস।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ঝড়ের তাণ্ডবে একা পড়ে যান কৃষক নেপাল দাস। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধান বাঁচাতে তিনি হিমশিম খেতে থাকেন। ঠিক তখনই আশপাশের কৃষক ও কৃষানিরা ছুটে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সবাই মিলে ঝড়-বৃষ্টির আগেই ধানগুলো একত্র করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রামীণ এই ঐক্যের দৃশ্য মুহূর্তেই মানবিকতার অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।

কৃষক নেপাল দাস বলেন, ‘কৃষিকাজ এখন যুদ্ধের মতো হয়ে গেছে। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই আমাদের ফসল ঘরে তুলতে হয়। কখনো ঝড়, কখনো বৃষ্টি, আবার তীব্র রোদ— সবকিছুর সঙ্গেই লড়তে হয়।’

তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শ্রমিক সংকটে অনেকেই সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না। আবার অনেক জমিতে কাদা ও পানির কারণে হারভেস্টার মেশিনও চলতে পারছে না। এতে খরচ বাড়ছে, সময়ও নষ্ট হচ্ছে।

একই গ্রামের কৃষানি মায়া রানী দাস বলেন, ‘ধান কাটার পর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা থাকে আবহাওয়া। একটু বৃষ্টি হলেই সব শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। আজ সবাই মিলে সাহায্য না করলে বড় ক্ষতি হয়ে যেত।’

এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কৃষকেরা। করিমপুর গ্রামের কৃষক কাউসার মিয়া, রন্নারচর গ্রামের প্রফুল্ল তালুকদার ও জটিচর গ্রামের নুরুল হক জানান, উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি।

তাদের অভিযোগ, বাজারে পাইকাররা প্রতি মণ ধান ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় কিনতে চাচ্ছেন। এতে লাভ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে খরচই উঠছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী জানান, হাওরাঞ্চলে এ সময়ে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি স্বাভাবিক হলেও এটি কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উপজেলায় এ পর্যন্ত হাওরের প্রায় ৩৯ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র জাপানের

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন, নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা সম্পন্ন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা

জাপানের দুর্দান্ত জবাব, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সমতায় ফেরা

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ফয়েজের ফেসবুক স্ট্যাটাস

সেভেন আপের দুঃসহ স্মৃতি : ১২ বছর পর ‘বন্ধু’ পেল ব্রাজিল

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে ‘রহস্যজনক কারণে’ দিল্লিতে প্রবেশে বাধা

মাঠে মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস-জাপান

ভোলায় মাছসহ ৩ জেলে আটক

ব্রাজিলের সেই ‘সেভেন আপ’ এর স্মৃতি ফেরাল জার্মানি

১০

জার্মানির গোলবন্যা, কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত

১১

৫–১ গোলে এগিয়ে গেল জার্মানি

১২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা

১৩

রাশিয়া যাওয়ার দেড় মাসের মধ্যে নিখোঁজ মফিজ মিয়া, ড্রোন হামলায় নিহতের গুঞ্জন

১৪

যে কারণে নেতানিয়াহুকে নির্বোধ বললেন ট্রাম্প

১৫

পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, গাড়িচাপা দিয়ে যুবককে হত্যাচেষ্টা

১৬

চুরির অভিযোগে চোরকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

১৭

মাহমুদা লাবনীর গুচ্ছ কবিতা

১৮

দুই এমপিকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরালেন মমতা

১৯

এমপি মনিরুল হকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত: সর্ব মিত্র চাকমা

২০
X