রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
স্বপ্ন গড়ার কারিগর আজ নিখোঁজ

ঠাকুরগাঁওয়ের ফাতেমার উত্থান ও পতনের হৃদয়বিদারক গল্প

ফাতেমার কারখানায় কাজ করছেন এক ব্যক্তি। ছবি : কালবেলা
ফাতেমার কারখানায় কাজ করছেন এক ব্যক্তি। ছবি : কালবেলা

একসময় সীমান্তঘেঁষা জনপদের অন্ধকারে আলোর প্রদীপ হয়ে উঠেছিলেন ফাতেমা বেগম। শূন্য হাতে শুরু করা এক ক্ষুদ্র উদ্যোগকে তিনি রূপ দিয়েছিলেন সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে। কিন্তু সময়ের নির্মম পরিহাস! আজ সেই সফল নারী উদ্যোক্তাই সব হারিয়ে নিরুদ্দেশ।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কাদি হাট জোতপাড়া গ্রামের অতিসাধারণ পরিবারে জন্ম ফাতেমার। দারিদ্র্যের কষাঘাতে শৈশবে স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। অল্প বয়সে বিয়ে, সংসারের দায়িত্ব, সব মিলিয়ে জীবন ছিল সংগ্রামের আরেক নাম।

১৯৯৯ সালে স্বামীর ব্যবসায় লোকসানের পর যখন পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে, তখনই দৃঢ় প্রত্যয়ে ঘুরে দাঁড়ান ফাতেমা। স্থানীয় একটি এনজিও থেকে মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে চারটি মেশিন দিয়ে ঘরেই শুরু করেন পাপোশ তৈরির কাজ। সেই ছোট্ট উদ্যোগই ধীরে ধীরে বদলে দেয় তার ভাগ্যের চাকা। অদম্য পরিশ্রম আর দূরদর্শিতায় কয়েক বছরের মধ্যেই তার কারখানায় মেশিনের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭টিতে। গড়ে ওঠে দুটি বড় উৎপাদন কেন্দ্র। তার তৈরি নান্দনিক ও টেকসই পাপোশ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম কুড়ায়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষের, যাদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেন জাতীয় পুরস্কারও।

সফলতার এই ধারা হঠাৎ করেই থমকে যায়। বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতি, বাজারের অস্থিরতা এবং কাঁচামালের ঊর্ধ্বগতির চাপে ব্যবসা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেই ঋণের ভার আর বহন করতে না পেরে নিজের হাতে গড়া কারখানাই বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন তিনি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় বর্তমান মালিক আবু সায়েম পান্নার সাথে, তিনি জানান, দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে ফাতেমা তার সব সম্পদ বিক্রি করে পরিবারসহ গ্রাম ছেড়ে চলে যান। তারপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

একসময় যার হাত ধরে শত শত পরিবারের জীবনে সচ্ছলতা ফিরে এসেছিল, সেই ফাতেমার অনুপস্থিতিতে এখনো শূন্যতা অনুভব করেন স্থানীয়রা। অনেকের চোখে ভাসে তার সংগ্রাম আর সাফল্যের দিনগুলোর স্মৃতি। প্রশ্ন একটাই— স্বপ্ন ভাঙার এই গল্প কি এখানেই শেষ? নাকি কোনো একদিন নতুন করে ফিরে আসবেন ফাতেমা, আবারও গড়বেন স্বপ্নের সাম্রাজ্য? সেই উত্তর আজও খুঁজছে রাণীশংকৈলের মানুষ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভৈরবে সংঘর্ষের ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ড স্টেশনে হামলা-ভাঙচুর

আ.লীগের ৪ নেতা গ্রেপ্তার

আজতেকায় উদ্বোধনী বাঁশি, মেক্সিকোর দুর্গে অগ্নিপরীক্ষা দক্ষিণ আফ্রিকার

রূপালীক্যাশ ও আকিজ অনলাইনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত

বাজেটে কালো টাকা বৈধতার সুযোগ না রাখায় সরকারকে সাধুবাদ জানাল টিআইবি

অস্ট্রেলিয়াকে পাপুয়া নিউগিনির কাতারে নামাল বাংলাদেশ

কাশ্মীরে পাকিস্তানি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, বহু সেনা নিহত 

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিআইসিএম’র বিনিয়োগ শিক্ষা প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

গ্লোবাল ফ্যাটি লিভার ডে / ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটালের ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক আয়োজন

১০

খুলনা সিটি মেডিকেল হাসপাতালে আগুন

১১

দেশে ফের ভূমিকম্প

১২

কী আছে ইরানের ‘খার্গ’ দ্বীপে, কেনই বা এটি দখলে মরিয়া ট্রাম্প 

১৩

অপারেশন শেষ না করেই চলে গেলেন চিকিৎসক, অতঃপর...

১৪

আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করায় ওসির অপসারণ চাইল বিএনপি

১৫

১৫০ সিসির বেশি মোটরসাইকেলে লাগবে টিআইএন, থাকছে না কর

১৬

কম বয়সী তরুণীদের দিয়ে ইউক্রেনীয় সেনা হত্যার ফাঁদ পেতেছে রাশিয়া

১৭

কুমকুম দত্তের কবিতা : ছায়াদুপুর

১৮

বিশ্বকাপের ৪৮ দল: সব খেলোয়াড়ের নাম ও জার্সি নম্বর এক নজরে দেখে নিন

১৯

করমুক্ত আয়সীমার সঙ্গে বাড়ছে আয়করের বোঝা

২০
X