

নোয়াখালীতে পুলিশের উপস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তাদের দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং ‘মব-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দিলেও একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল চারটায় সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের যৌথ উদ্যোগে এ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগ মিছিল করার কথা ছিল। বিকেল ৪টার দিকে তারা এ বিক্ষোভ মিছিল করে। পুলিশ প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই তারা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন এবং বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি সংগঠন, সে ক্ষেত্রে এটি আইনিভাবে দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের। তবে আজকে পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার বলে আমি মনে করি।’
নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর সাধারণ মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে এদেশকে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসন মুক্ত করেছে। সুতরাং বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। দেশপ্রেমিক জনতা যেকোনো মূল্যে ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করবে।
আজকে পুলিশের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়। মব সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সুধারাম মডেল থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগে থেকেই খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল সেখানে উপস্থিত ছিল। তারা জুমার পরে মিছিলটি না করে, পরবর্তীতে বিকেল চারটায় মিছিলটি করে। সেখানে আমাদের পুলিশের সংখ্যা ছিল তিনজন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না। মিছিলে শুরুতে তাদের বাধা দিলেও পরবর্তীতে উপস্থিতির সংখ্যা বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা সরে পড়ে।’
এ ঘটনা জানতে চেয়ে নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনের মুঠোফোন একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।