মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৮:১৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

এক মাস আগে লিবিয়ায় আলমগীরকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা

নিহত আলমগীর হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
নিহত আলমগীর হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

লিবিয়ায় অপহৃত হওয়ার দীর্ঘ আড়াই মাস পর নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেনকে হত্যা করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

সোমবার (৮ জুন) তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত আলমগীর হোসেন (৩৫) উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাইক্রোবাসে করে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

নিহত আলমগীরের ভাই লিবিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমান বলেন, আলমগীরকে অপহরণের পর তাকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানায় আলমগীরসহ আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ওই আস্তানা থেকে কয়েকজন বাংলাদেশি মুক্তিপণ দিয়ে সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আলমগীরের কাছেও ২৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।

সোমবার (৮ জুন) দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মোবাইলে থাকা ছবি দেখে আলমগীরের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

নিহতের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো উনার সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কোনো সন্ত্রাসী আমাদের কাছে মুক্তিপণও চায়নি। সোমবার রাতে হঠাৎ উনার মৃত্যুর খবর পাই।

স্বামীর মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্ত্রী শাহিনা আক্তার ও শোকসন্তপ্ত পরিবার।

আলমগীরের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবরে নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাতাস এখন ভারী হয়ে উঠেছে। স্বজন ও এলাকাবাসী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মরদেহের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

ব্যভিচারের অভিযোগের মামলায় ক্রিকেটার নাসির ও তামিমা খালাস

‘সুপার’ এল নিনোতে ১০টি বড় বিপদের শঙ্কা

ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২

দুই ম্যাচের ২ পেনাল্টিতে শেষ হলো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

বেইলি ব্রিজ ভেঙে ঢাকা-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা যান চলাচল বন্ধ

নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল থেকে চলে যাও, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান

ট্রেন উদ্ধারে যাওয়ার পথে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত

নতুন উপ-উপাচার্য পেল চার বিশ্ববিদ্যালয়

সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

১০

ফুটবল খেলে ঘরে ফেরা হলো না ২ শিশুর

১১

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১৭ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা

১২

ইসরায়েল থামতে না থামতেই নতুন উত্তেজনা শুরু যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের

১৩

দেশে স্বর্ণের বাজারে বড় পতন

১৪

পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতায় ১৭ বিজিবি

১৫

আগুনে পুড়ল ৭ দোকান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

১৬

দেশে আজ স্বর্ণের বাজারদর

১৭

ময়মনসিংহ-জামালপুর রেল যোগাযোগ বন্ধ

১৮

এই না হলে মেসি? মাঠে নেমে গোল করেই জানিয়ে দিলেন বার্তা

১৯

বিএনপি নেতার মাথা ফাটালেন আরেক নেতা

২০
X