

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলার অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মানহানি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে নিম্ন আদালত।
রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
এদিকে মুফতি আমির হামজার আত্মসমর্পণকে ঘিরে আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরো আদালত চত্বর ফাঁকা করে দিয়ে পুলিশ ও র্যাব নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলে। সাংবাদিক প্রবেশেও ছিল ব্যাপক কড়াকড়ি।
বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে আদালত থেকে বেরিয়ে যান মুফতি আমির হামজা। এ সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে কোনো জবাব না দিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
মুফতি আমির হামজার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালেব বলেন, আমাদের সিরাজগঞ্জের আইনজীবী কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি হাইকোর্টে বিভাগে জামিন আবেদন করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে মোতাবেক আজকে আমরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসে স্বেচ্ছায় বেলবন্ড ফার্নিশ করে। যেহেতু উনি সংসদ সদস্য, ওনার অনেক ব্যস্ততা রয়েছে। চৌহালী আদালতে তার স্থায়ী জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তা মঞ্জুর করেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম খান দায়ের করা অপর একটি মামলাতেও তার বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছিল। ওই মামলাতেও আমরা জামিন আবেদন করলে বিচারক মঞ্জুর করেন।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবির কর্নেল বলেন, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী আখ্যা দেওয়ায় আমি বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলাম। ওই মামরায় ওনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হয়েছিল, পেপার বিজ্ঞপ্তি হয়েছে। উনি হাইকোর্টে জামিন চেয়েছিলেন। হাইকোর্ট ৮ সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন। আজকে তার শেষ তারিখ ছিল। আজকে তিনি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বেল বন্ড ফার্নিশ করেন। অপরদিকে তিনি মূল মামলায় চৌহালী আমলি আদালতে জামিন চেয়েছেন। বিজ্ঞ আদালত ১০ হাজার টাকা জামানতে জামিন মঞ্জুর করেছেন। এছাড়াও সদর থানা আমলি আদালতে ভিপি শামীম খান বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন। ওই মামলাতেও জামিন পেয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার একটি মসজিদে প্রকাশ্য সভায় তাকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন আমির হামজা। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়।
এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল। এ মামলায় ওইদিনই আদালত সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নিম্ন আদালত।