

বগুড়া জেলা পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল সুমন রেজার বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই ঘটনার পর পলাতক থাকায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা পুলিশ।
অপহৃত কিশোরীর বড় বোন ও কনস্টেবল সুমন রেজার স্ত্রী লাবণ্য আক্তার বাদী হয়ে গত শুক্রবার (১২ জুন) বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় এই অপহরণ মামলা করেন।
রোববার (১৪ জুন) শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত ৭ জুন বেলা ৩টার দিকে কনস্টেবল সুমন রেজার শ্যালিকা বাসা থেকে প্রাইভেট পড়তে বের হয়। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। নিখোঁজের পরদিন ৮ জুন পরিবারের পক্ষ থেকে শাজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে জানা গেছে, প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে সুমন রেজা মোটরসাইকেলে করে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই সুমন রেজা ও ওই কিশোরী নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল সুমন রেজার বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত ১৫ মে সুমন রেজাসহ তিন কনস্টেবল ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বগুড়া চতুর্থ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কার্যালয়ে যান। সেখানে কর্মরত এপিবিএন সদস্য তানজিমকে ডেকে তার মোটরসাইকেলটি চোরাই দাবি করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় তানজিম বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিলেও পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় সে সময় সুমন রেজার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া মুখপাত্র আতোয়ার রহমান বলেন, কনস্টেবল সুমন রেজা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার ও নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।