ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শেষে অফিস খুললেও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলিতে ভিড় কমেনি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আয়তনের জমিদার বাড়িটি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায়। এই বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে ভ্রমণপিপাসুরা মাত্র ৩০ টাকায় টিকিট কেটে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।
বালিয়াটি জমিদার বাড়িটি মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত। গোবিন্দ রাম সাহা বালিয়াটি জমিদার পরিবারের গোড়াপত্তন করেন ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। তিনি ছিলেন লবণের ব্যবসায়ী। এটি বাংলাদেশের ১৯ শতকে নির্মিত অন্যতম প্রাসাদ। এই প্রাসাদ চত্বরটি প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার জমির উপর ছড়িয়ে থাকা ৭টি দক্ষিণমুখী দালানের সমাবেশ। যা বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে।
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বা প্রাসাদের কেয়ারটেকার ইব্রাহিম বলেন, সারা বছরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসেন এই ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িতে। দুই ঈদ, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি পর্যটকরা ভিড় করেন। আমাদের টিকিট মূল্য কম এবং ঢাকার অত্যন্ত কাছে হওয়ায় সবার পছন্দ এ পর্যটনকেন্দ্রটি।
আব্দুল বারি নামের এক পর্যটক বলেন, ঈদের পর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছি। শুক্রবার সকালে সবার আর্জি মেটাতে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি এসেছি।
বালিয়াটি জমিদার বাড়ির আরেক কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান বলেন, এবার ঈদের পরের দিন মঙ্গলবার থেকে জমিদার বাড়িটি টানা শুক্রবার নিয়ে ৪ দিন খোলা রয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ বেড়াতে আসছেন। এত বেশি ভ্রমণপিপাসুরা আসছেন যে, আমাদের নিয়ন্ত্রণ করা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারপরও সাধারণ মানুষদের বিনোদন দেবার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের এ ঈদ মৌসুমে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হতে পারে।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শান্তা রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের ভিড় কমেনি বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে। তা ছাড়া নাহার গার্ডেন এবং সাটুরিয়ার ধলেশ্বরী নদীতে বর্ষার পানি এসেছে। এখানেও পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন। সাটুরিয়ায় বাড়তি পর্যটকদের কথা চিন্তা করে আমাদের প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন