মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বিচার চলাকালে আদালতে পাথর নিক্ষেপ

মেহেরপুর জেলা জজ আদালত। ছবি : কালবেলা
মেহেরপুর জেলা জজ আদালত। ছবি : কালবেলা

বিচার চলছিল খোলা এজলাসে। হঠাৎ বিকট শব্দে থমকে যায় আদালত। জানালা ভেঙে ছুটে আসে একটি পাথর। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে। কিছুক্ষণ পর বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতে এসেছিলেন, প্রবেশে বাধা পেয়ে পাথর ছুড়েছেন।

আদালতের বারান্দায় দায়িত্বরত কোর্ট পুলিশের সদস্য নুরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শরীফকে হাতেনাতে আটক করেন। শরীফ মেহেরপুর শহরের নতুন শেখপাড়া এলাকার মৃত রেজাউল করিমের ছেলে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টায় মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচার কার্যক্রম চলছিল। হঠাৎ জানালার কাচ ভেঙে একটি পাথর এজলাস কক্ষের ভেতরে এসে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে এজলাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিচার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিচারকের সামনে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। যোগাযোগ করতে পারেননি। আদালতে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এজলাসের দিকে পাথর নিক্ষেপ করেছেন।

বিচারকের সামনে দেওয়া বক্তব্যে অভিযুক্ত আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। 'আমি মরলে শহীদ হব।' এ সময় সে একের পর এক অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে থাকে।

এ ঘটনায় এজলাসে উপস্থিত আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচারকের নির্দেশে অভিযুক্তকে আদালতের হাজতখানায় পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে একটি খাতা ও একাধিক কাগজ উদ্ধার করা হয়। এসব কাগজে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্য সম্বলিত উস্কানিমূলক ও অস্পষ্ট লেখা পাওয়া গেছে। পুলিশ এসব আলামত জব্দ করেছে। এজলাস কক্ষের ভেতর থেকে নিক্ষিপ্ত পাথরটি ও উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাসুদ রানা ঘটনার বিবরণ সহ মেহেরপুর সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের বক্তব্যের পাশাপাশি তার মানসিক অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক, আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

কালবেলা/বিএইচ/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাঁচা মরিচের ঝাঁজে অস্থির বাজার, সবজির দামে সেঞ্চুরি

নড়াইলে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

বন্যা মোকাবিলায় নির্ভুল পূর্বাভাস ও পরিকল্পিত নগরায়ণের বিকল্প নেই

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রথম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

সাতক্ষীরা-৪ কি হাতছাড়া হচ্ছে জামায়াতের?

সংঘবদ্ধ সাইবার হয়রানির শিকার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

দুই দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরি কত?

রয়টার্সের প্রতিবেদন / পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীকে আগেই জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি

নিজ বেতনের টাকায় জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

‘জনা নায়াগান’ দেখতে গিয়ে নাজেহাল তৃষা কৃষ্ণান

১০

ইরানে টানা ১৩তম রাতে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

১১

কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি

১২

পরিত্যক্ত কাভার্ডভ্যানে মিলল সোয়া ৩ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য

১৩

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যু, দুপুরে দেশে ফিরছেন স্পিকার

১৪

ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়: শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে শচীন

১৫

ফুটবলকে বিদায় জানালেন জনপ্রিয় আর্জেন্টাইন তারকা

১৬

গ্রাহকদের ৪০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’

১৭

বরিশাল বিসিকে কারখানা থেকে শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

১৮

রয়টার্সের প্রতিবেদন / হাসিনাকে ঘিরে চাপ, শুক্রবারই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

১৯

ছেলেকে মারধরের প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুপিয়ে জখম

২০
X