কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০২:২৮ পিএম
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৩:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সম্পদ গড়ার নেশায় মত্ত হন পিকে হালদার : বিচারক

পিকে হালদার। ছবি : সংগৃহীত
পিকে হালদার। ছবি : সংগৃহীত

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার দিঘিরজান গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আগামী প্রশান্ত কুমার হালদার। তার মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা ছিলেন। বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার পরিবর্তে সম্পদ গড়ার নেশায় মত্ত হন। রায়ের পর্যবেক্ষণে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

বিচারক পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার তার মা, আপন ভাইসহ ঘনিষ্ঠজনের সহযোগিতায় অসংখ্য নামি-বেনামি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে পাহাড়সম অবৈধ সম্পদ অর্জন করে। একজন মেধাবী নাগরিক তার মেধাকে কাজে লাগিয়ে জাতি গঠনের যেরূপ ভূমিকা রাখতে পারে, ঠিক অপরদিকে অপরাধ চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়লে তখন সে জাতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মানুষ ব্যক্তি স্বার্থের জন্য অন্ধ হয়ে যায়। আসামি প্রশান্ত কুমার হালদারের নিকট দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থ অনেক বড় ছিল। আমরা যেন নিজের সামান্য ব্যক্তি স্বার্থের জন্য মানিলন্ডারদের সহযোগী না হই।

এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় পিকে হালদারের ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি অপর ১৩ আসামির পৃথক দুটি ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের চার বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।

কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপর আসামিরা হলো- পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, পিকে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা বড়াল ও অনিন্দিতা মৃধা, শঙ্খ বেপারি, সুকুমার মৃধা, পূর্ণিমা রানী হালদার, উত্তম কুমার মিস্ত্রি, অমিতাভ অধিকারী, প্রিতিশ কুমার হালদার, রাজীব সোম, সুব্রত দাস, অনঙ্গ মোহন রায় ও স্বপন কুমার মিস্ত্রি।

এদিন কারাগারে আটক পিকে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা বড়াল, অনিন্দিতা মৃধা, শঙ্খ বেপারি ও সুকুমার মৃধাকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে পিকে হালদারসহ ১০ আসামি পলাতক থাকায় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালত তাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তারা হলেন- লীলাবতী, পূর্ণিমা রান, উত্তম কুমার, অমিতাভ, প্রিতিশ, রাজীব, সুব্রত, অনঙ্গ ও স্বপন।

বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, বিদেশে যারা অবৈধভাবে সেকেন্ড হোম গড়েছে, তারা আসলে দেশকে ভালোবাসে না। প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং আমাদের মুক্তির চেতনা নিয়ে অর্থপাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে। আসলে অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদারের মতো অর্থ পাচারকারীদের কোনো আদর্শ নেই। তারা কোনো আদর্শ লালন করে না। তবে তারা অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তাদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে। প্রকৃতপক্ষে তারা দেশ ও জাতির শত্রু। জাতীয় স্বার্থ ও দেশের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে তাদের সমবেতভাবে প্রতিহত করতে হবে। ফলস্বরূপ, অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদার রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে কোন প্রকার ছাড় পাওয়ার যোগ্য নন। এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট এখনও মুলতবি রয়েছে যদিও এটি অনেক আগেই কানাডায় পাঠানো হয়েছিল। উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র একা অর্থ পাচার প্রতিরোধ করতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা এবং আমাদের দেশের নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের দেশে অর্থ পাচারের অপরাধ প্রতিহত করা যেতে পারে।

২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী। মামলার এজাহারে বলা হয়, পিকে হালদার বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ নিজ দখলে রেখেছেন। এ ছাড়া ওই অর্থ আড়াল করতে বিদেশে পাচার করে মানি লন্ডারিং আইনেও অপরাধ করেন তিনি। মামলাটি তদন্ত শেষে ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন। ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালীন এ মামলায় ১০৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এরপর গত ৪ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাবির তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত, দুজনকে অব্যাহতি

বন্ধুর বিয়েতে এসে প্রাণ গেল কুয়েত প্রবাসীর

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন

দিনে কতবার চুল আঁচড়ানো উচিত? জানুন সঠিক নিয়ম

পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র সিএলএস এজেন্ট সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

‘আ.লীগ এখন আরও প্রবলভাবে আছে’, অভিনেত্রী শাওনের দাবি

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও ৭ জনের সাক্ষ্য

সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলন আদেশ বাতিল হয়নি

আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, সাবেক মেয়রসহ ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সালমান শাহর কবর অক্ষত থাকছে, আদালতের সিদ্ধান্তে স্বস্তি পরিবারের

১০

দিল্লিতে ১০ বছরের শিশুকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও খুন

১১

ফ্যাসিবাদের উত্থানের চেষ্টা আর সম্ভব নয়, জনগণ ঐক্যবদ্ধ: রিজভী

১২

শাহজালাল মাজারে ৫ লাখ টাকা দিলেন সাবেক ডিসি সারওয়ার

১৩

ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা / জামায়াত দেশকে ‘ফ্যাসিবাদী কাঠামোর’ দিকে ঠেলে দিতে চায়: ছাত্রদল

১৪

ক্বারি আবু রায়হানের ওপর হামলার ঘটনায় ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের নিন্দা

১৫

দীর্ঘ লড়াই শেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন জাকির হোসেন

১৬

এনসিপি-জামায়াত নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী দিলেন রাশেদ

১৭

আওয়ামী লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

১৮

চেয়ারে বসে নামাজ আদায়কালে চেয়ারের পা কোথায় থাকবে?

১৯

ক্যালকুলেটরে ‘ঘুষ’ হিসাব করা সেই কর্মকর্তা প্রত্যাহার

২০
X