কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় উপাচার্য এ ঘোষণা দেন।
উপাচার্য বলেন, আমাদের ৪টি সন্তান আকস্মিক আহত হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডিরেক্টরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেছেন আপনার শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ প্রাইরোরিটি দিয়ে সেবা দেওয়া হবে। আমাদের শিক্ষকরাও সেখানে আছেন। আমরা যোগাযোগ রাখছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা আহত হলে আমরা অবশ্যই দেখব।
এসময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে উপাচার্য আরও বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে সে যে ছাত্র সংগঠনেরই হোক। শিক্ষার্থীদের জীবন আমরা হুমকির দিকে ঠেলে দিতে পারি না। আমাদের ছাত্রী হলে যেসব মেয়েরা রয়েছেন আমরা তাদেরও নিরাপত্তার দেবো। হল সংশ্লিষ্টদের আমি এ বিষয়ে বলে দেব।
এসময় উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকারী পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন- সমাজকর্ম বিভাগের শাহিন আলম, সাংবাদিকতা বিভাগের ইভান তাহসিব, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের স্বর্ণা, ফার্মেসি বিভাগের আবু বকর ও ফিন্যান্স বভাগের আব্দুল্লা মাফি।
এসময় শাহিন আলম বলেন, আমাদের মিছিলে সিএমএম কোর্টের সামনে গেলে সরকার দলীয় লোক ইট-পাটকেল ছোড়ে, আত্মরক্ষায় শিক্ষার্থীরাও ছোড়ে। পরে আমাদের ওপর ডিরেক্ট গুলি ছোড়ে। এতে চারজনের গুলি লাগে, একজনের ছুরিকাঘাতের শিকার। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমাদের যৌক্তিক দাবি মানলে আমরা সুন্দরভাবে আন্দোলন থেকে ফিরে আসতাম পড়ার টেবিলে। আমরা শিক্ষকদের সাহায্য চাচ্ছি।
সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাহসিব বলেন, যে দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি তা মানুষের আবেগের সাথে মিশে গেছে। আজ আমাদের হাতে লাঠি ছিলো কিন্ত আমরা সহিংসতা করিনি। অভিভাবক হিসেবে আমরা শিক্ষকদের পেতে চাই। ছাত্রলীগকে কেনো প্রশাসন এখনো সহযোগিতা দেবে? তারা যেভাবে হামলা করেছে তা অমানবিক। কেনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে না?
লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী স্বর্ণা বলেন, আমরা ছাত্রী হলের যারা আন্দোলন করছি তাদের হল ছাত্রলীগের নেতারা হুমকি দিচ্ছে। হলে থেকেও যদি আমাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে তাহলে আমরা কোথায় যাবো?
এর আগে বিকেলে কোটা সংস্কারপন্থি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রায় সাহেব বাজার সম্মুখে গেলে তাদের উপর ইট-পাটকেল ছোড়ে স্থানীয় আওয়ামীপন্থি নেতারা। এরপর শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ছোড়েন তারা। এতে চার শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়াও একজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন