

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বগুড়ার যাচ্ছেন। তাই আনন্দ উচ্ছ্বাসে ভাসছেন বগুড়ায় লাখো মানুষ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। এজন্য মঞ্চ তৈরি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন জেলা বিএনপির নেতারা।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে গোটা জেলার বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মাঝে আনন্দ–উল্লাস বিরাজ করছে। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তাকে কাছ থেকে দেখবেন এটাই তাদের বড় উচ্ছ্বাস।
এর আগে গত ২০০৬ সালে বগুড়ায় এসেছিলেন তারেক রহমান। তখন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল উদ্বোধনে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে এসেছিলেন। তখন নিজেই মায়ের গাড়ি চালিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। ২০০৪ সালেও তিনি বগুড়ায় এসেছিলেন এবং তার বিএনপির সদস্যপদ লাভ করেন বাবার জন্মভূমি বগুড়ার গাবতলী থেকেই। তিনি তখন বগুড়া জেলা কমিটির এক নম্বর সদস্য ছিলেন। তারপর বহুবার বগুড়ায় এসেছেন এবং সূত্রাপুর রিয়াজ কাজী লেনের নিজের তৈরি বাসায় থেকেছেন।
পরে ২০০৬ সালে তিনি বগুড়া-নাটোর এবং বগুড়া-রংপুর সড়কের ত্রিকোণ বিশিষ্ট জায়গায় একটি পার্কও করেছিলেন। এ ছাড়াও বগুড়ার বনানী-মাটিডালি ৯ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করনে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন। মাটিডালি তিনমাথা মোড়ে একটি বিমান প্রতিস্থাপন করে মোড়টিকে দৃষ্টি নন্দন করেছিলেন তিনি।
এর আগে তিনি ১১ জানুয়ারিতে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বগুড়ার বনানী-মাটিডালি ৯ কিলোমিটার সড়কের ডিভাইডারের মাঝে গাছের রং করা হয়। জজকোর্টের সামনে তিন মাথায় ঘোড়ার ভাস্কর্য রং করেছে। তারেক রহমান ১৯ বছর আগে যখন নিয়মিত বগুড়ায় আসতেন তখন শাকপালা তিন মাথায় একটি পার্ক শুরু করেছিলেন। সেই পার্কটিও নতুন করে সাজিয়েছে প্রশাসন। তারেক রহমানের আগমনের খবরে বগুড়া শহরের কোনো আবাসিক হোটেলে জায়গা নেই। সব রুম দু’দিন আগে থেকে বুকিং হয়ে গেছে।
এদিকে তারেক রহমান সুত্রাপুরে যে বাসা তৈরি করেছিলেন, সেই বাসাটিও নতুন করে বেডরুম থেকে সবই সাজানো হয়েছে। তবে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে বিএনপির সাবেক নেতা শোকরানার ফোর স্টার হোটেলে উঠবেন বলে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেন। বেলা ২টায় রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠ নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় নওগাঁর এটিম মাঠে এবং রাত সাড়ে ৭টায় আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যানের তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে আছে ৩০ জানুয়ারি ৩টা ৪৫ মিনিটে রংপুরের পীরগঞ্জের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত, সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে, ৩১ জানুয়ারি বেলা ২টায় বিসিক শিল্প পার্কে, ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভা। এই সফরকালে দু’দিন বগুড়ায় হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইবেন এবং দলীয় ছয় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেবেন। জনসভা শেষে তিনি থাকবেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সামনে হোটেল নাজ গার্ডেনে। সেই হোটেলও প্রস্তুত।
হোটেল মালিক সাবেক বিএনপি নেতা শোকরানা কালবেলাকে জানান, বিকেল ৫টার আগেই সব লোকজন খালি করা হবে। দর্শনার্থী এবং অন্য কোনো বর্ডার রাখা হবে না।
বিএনপির মিডিয়া সেল রাজশাহী-রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী কালাম আজাদ কালবেলাকে জানান, চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহী-নওগাঁ হয়ে বগুড়ায় জনসভা করবেন। রাতে তিনি বগুড়ায় অবস্থান করবেন। শুক্রবার তিনি বগুড়ায় থেকে সদর ও গাবতলীতে জনসংযোগ করবে। তিনি বাবা জিয়াউর রহমানের বাড়ি বাগবাড়িতেও যাবেন।
তিনি আরও বলেন, আসলে বগুড়ার সন্তান এবং নিজের জেলা, তাই তার শিডিউল থাকতে না পারে। জনসংযোগ এবং নিজের ইচ্ছায় আরও কিছু অনুষ্ঠান করতে পারেন কিংবা অন্য কোনো জায়গাতেও যেতে পারেন।
বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক হিরু চৌধুরী কালবেলাকে জানান, বগুড়া শহরে লোকজনের আগমনে তিল ঠাঁই থাকবে না। মাঠ ছাড়াও বিভিন্ন সড়কে লোকজনের ভিড় থাকবে লক্ষণীয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য বগুড়ায় মানুষের ঢল নামবে। বগুড়াবাসী এবং বগুড়া জেলা বিএনপির কমিটি প্রস্তুত তারেক রহমানকে বরণ করতে।
বগুড়া-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলম এবং বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ জানান, লিডার আসছেন। আমাদের ক্যানভাসের কোনো প্রয়োজন নেই। নেতার আগমন এবং ভাষণে বগুড়ার ৭টি আসনেই বিএনপি বিজয়ী হবে এবং অবহেলিত বগুড়ার উন্নয়নে তারেক রহমান মাইলফলক হয়ে বগুড়াবাসীর অন্তরে আজীবন থাকবেন।
জিয়া পরিবারের স্বজন বাগবাড়ির স্মরণ তালুকদার জানান, তারেক রহমান বাগবাড়িতে আসবেন তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বাগবাড়ির ঘর সাজানো হয়েছে। এখানে বাবার স্মৃতি রয়েছে। সেই সৃতি অবলোকন করবেন এবং স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলবেন।
মন্তব্য করুন