

জব্দ করা সুপারট্যাংকার ছেড়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পানামা-পতাকাবাহী সুপারট্যাংকার এমটি সোফিয়াকে ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন ট্যাংকারটি ফেরত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সামুদ্রিক পথে জব্দ ও আটক অভিযান পরিচালনার নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন কোস্ট গার্ডের এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। একইভাবে ভেনেজুয়েলার সরকারের পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্বে থাকা দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ও সামরিক বাহিনী যৌথভাবে ট্যাংকার সোফিয়াকে জব্দ করে। সে সময় ট্যাংকারটিতে তেল বহন করা হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তখন জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সোফিয়াটি একটি ‘রাষ্ট্রহীন ও নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ডার্ক ফ্লিট ট্যাংকার’।
একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সোফিয়ার ভেতরে এখনও তেল রয়েছে কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে প্রথমে কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করলেও তা ব্যর্থ হয়। এরপর চলতি মাসের ৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নাটকীয় অভিযানের নির্দেশ দেন। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে।
এরপর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির ভেঙে পড়া তেল শিল্প পুনর্গঠনে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে সোফিয়া ও আরেকটি জব্দ করা ট্যাংকারকে পুয়ের্তো রিকোর কাছাকাছি এলাকায় দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বা তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিপের’ অংশ হওয়া অধিকাংশ ভেনেজুয়েলা-সংযুক্ত ট্যাংকারই ২০ বছরের বেশি পুরোনো। এসব জাহাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সনদ ও বিমা না থাকায় নৌপরিবহন ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। শিপিং ও বিমা খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ ধরনের ট্যাংকার দুর্ঘটনায় পড়লে বা তেল ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিপূরণ দাবি বা দায় নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মন্তব্য করুন