

ভারতীয় সিনে-ইন্ডাস্ট্রির বরেণ্য অভিনেত্রী ও খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্করের জীবন যেন শিল্পের মঞ্চে আঁকা এক অবিচল যাত্রাপথ। অভিনয় ও নাচের জাদুতে যিনি মুগ্ধ করেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে, সেই মমতা পেরিয়েছেন পাঁচ দশকের দীপ্তিময় পথ—যেখানে মিশে আছে সংগ্রামের তিক্ততা ও সাফল্যের মধুরতা। কখনো বাধা, কখনো অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ—সবকিছুকে ডিঙিয়ে এগিয়েছেন তিনি নিজের শক্তিতে। ৭০ বছর বয়সেও তার অটল বিশ্বাস, নারীর সম্মান নারীর নিজেরই অস্ত্র—কাজের সুযোগ কিংবা সুবিধার প্রলোভনে নিজের ওপর কোনো ধরনের কর্তৃত্ব বিস্তার করতে না দেওয়াই হলো সবচেয়ে বড় জয়।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মমতা শঙ্কর বলেন, ‘খুব অল্প বয়স থেকে নাচ করি, সিনেমা করেছি। কিন্তু কেউ কোনো দিন আমাকে খারাপ প্রস্তাব দেয়নি। আমি যদি বুঝি, কেউ আমাকে চালাকি করে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে, আমি এমন ভান করি যেন কিছু বুঝতেই পারিনি। আমি এত ভালোভাবে কাটিয়ে গিয়েছি বিষয়টা যে, তার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই ধরনের কথা সে আর আমাকে বলতে পারেনি।‘
অনৈতিক কাজে শুধু পুরুষরাই জড়িত—এ কথা ঠিক নয়। সব ক্ষেত্রে না হলেও, অনেক সময় নারীরাও অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার আশায় তাদের প্রশ্রয় দেন বলে মনে করেন মমতা। তার ভাষায়, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেয়েদের দিক থেকে ভুল হয়। কিছু একটা পাওয়ার জন্য আমরা (নারীরা) হয়তো নিজেকে ছেড়ে দিলাম। উল্টো দিকের মানুষটাকে কিছুটা এগোতে দিলাম। কিন্তু তারপর হয়তো কাজটা হলো না। তখন তার নামে ‘মি টু’ হয়ে গেল। এই জিনিসগুলো একদম পারি নিতে পারি না। কেউ কাউকে শারীরিক হেনস্তা করলে, সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু আমার মনে হয়, বুদ্ধি দিয়ে যেকোনো খারাপ প্রস্তাব কাটিয়ে যাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত বছর বর্তমান প্রজন্মের সাজ-পোশাক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন মমতা। তারপরও নিজের মতামত পরিষ্কারভাবে জানাতে দ্বিধা নেই তার।
মন্তব্য করুন