কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

৫ লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন কিডনি ক্যানসারে ভুগছেন

কিডনি
কিডনি ক্যানসারকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’ | ছবি : সংগৃহীত

কিডনি ক্যানসারকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ রোগটি শরীরে অনেকটা সময় সক্রিয় থাকলেও এর কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে ধরা পড়ে, তখন চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে কিডনি ক্যানসার চিকিৎসায় সাফল্যের হার অনেক বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে, যেগুলো অবহেলা করা বিপজ্জনক।

১. প্রস্রাবে রক্ত

কিডনি ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো প্রস্রাবে রক্ত আসা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় হেমেচুরিয়া। এ সময় প্রস্রাবের রং গোলাপি, লাল বা বাদামি হয়ে যায়। সাধারণত এটি ব্যথাহীনভাবে ঘটে এবং কয়েক দিনের মধ্যে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাই অনেকে গুরুত্ব দেন না। অথচ এটি সংক্রমণ বা কিডনিতে পাথরের কারণে হতে পারে, আবার ক্যানসারেরও ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এমন হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

২. পিঠের নিচের দিকে বা পাশে ব্যথা

সাধারণ পিঠব্যথার সঙ্গে কিডনি ক্যানসারের ব্যথার মিল নেই। এ ক্ষেত্রে পিঠের নিচের দিকে বা পাশের অংশে (ফ্ল্যাংক) স্থায়ী ব্যথা অনুভূত হয়। কোনো আঘাত ছাড়াই যদি এ ধরনের ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তবে তা কিডনির টিউমারের কারণে হতে পারে। বিশেষ করে মূত্রে রঙ পরিবর্তনের সঙ্গে এ ব্যথা দেখা দিলে পরীক্ষা করানো জরুরি।

৩. হঠাৎ ও অকারণে ওজন কমে যাওয়া

কোনো খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামের পরিবর্তন ছাড়াই দ্রুত ওজন কমতে থাকলে তা হতে পারে কিডনি ক্যানসারের আরেকটি লক্ষণ। ক্যানসারের কারণে শরীরের বিপাকক্রিয়া ও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ক্ষুধা কমে যায় এবং শরীর শক্তি হারায়। এ লক্ষণ ক্লান্তি বা দুর্বলতার সঙ্গে মিলে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. কিডনির আশপাশে চাকা বা ফোলাভাব

কিডনির পাশে বা পাঁজরের নিচে চাকা বা ফোলাভাব হলে সতর্ক হতে হবে। অনেক সময় নিজে থেকেই স্পর্শ করলে বোঝা যায়, আবার চিকিৎসকের নিয়মিত পরীক্ষায়ও ধরা পড়ে। হ্যাঁ সব চাকা ক্যানসার নয়, কিছু সিস্ট বা ফ্যাট জমার কারণে হতে পারে। তবে ক্যানসার হলে ওই চাকা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। তাই স্ক্যান বা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

৫. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা

কিডনি ক্যানসার রক্তকণিকা উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে অ্যানিমিয়া হয়। এতে রোগীরা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করেন। বিশ্রাম বা সাধারণ যত্নের পরও যদি অবসাদ না কাটে, আর এর সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা প্রস্রাবে রক্তের মতো উপসর্গ থাকে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, কিডনি ক্যানসার প্রথম দিকে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেক সহজ হয় এবং সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আজকের নামাজের সময়সূচি

গভীর রাতে হঠাৎ ক্ষুধা লাগলে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন?

ডিজিটাল গণমাধ্যম অগ্রদূতের আত্মপ্রকাশ

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর ‘আ.লীগের’ হামলা, আহত ১৮

রাজনীতিতেই থাকতে চাই, চাকরি নয় : ছাত্রদল নেতার আবেগঘন স্ট্যাটাস

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / জিম্মায় নেওয়া চুরির মালামাল থানায় ফেরত দিলেন কর্মকর্তা

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত

সকাল ৯টার মধ্যে ১৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই বাসের চালকসহ গ্রেপ্তার ৩ জনের জামিন

৩৫.৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড / সিলেটে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

১০

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নাহিদ ইসলামের বৈঠক

১১

মধ্যরাতে দেশে পৌঁছাবে লেবাননে নিহত ২ বাংলাদেশির মরদেহ

১২

শেষ মুহূর্তে বড় ধাক্কা, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের বিশ্বকাপ শেষ

১৩

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৩ অটোরিকশা যাত্রীর

১৪

রোগীকে আটকে ইনজেকশন পুশের টাকা দাবি, নার্সকে শোকজ  

১৫

গৃহকর্মী থেকে মন্ত্রী : কলিতা মাঝির উত্থানের গল্প

১৬

নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করল চসিক

১৭

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকার, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

১৮

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

১৯

ব্রাজিলের সামনে এবার মিসর

২০
X