কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:২৮ পিএম
আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আন্দোলনের সময় যে টর্চার সেলে রাখা হয়েছিল, শনাক্ত করলেন নাহিদ

টর্চার সেল পরিদর্শনে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম
ডিজিএফআইয়ের টর্চার সেল পরিদর্শনে যান উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সাদা পোশাকে নাহিদ ইসলামকে তুলে নিয়ে ডিজিএফআইয়ের টর্চারসেলে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সেক্রেটারি সুচিস্মিতা তিথি।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, গত জুলাইয়ে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়ার পর ডিজিএফআইয়ের এই টর্চারসেলে রাখা হয়েছিল নাহিদ ইসলামকে। আজ সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে কক্ষটি আইডেন্টিফাই করেন নাহিদ। এই কক্ষের একপাশে টয়লেট হিসেবে একটি বেসিনের মতো ছিল বলে জানান তিনি।

তিনি লেখেন, ৫ আগস্টের পর এই সেলগুলোর মাঝের দেওয়াল ভেঙে ফেলা হয়, দেওয়াল রং করা হয়। আজ প্রধান উপদেষ্টা রাজধানীর তিনটি এলাকায় র‍্যাব ও ডিজিএফআইয়ের টর্চারসেল (আয়নাঘর নামে পরিচিত) পরিদর্শন করেন।

এর আগে, সকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে আয়নাঘর পরিদর্শনে যান। তারা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেল এবং র‌্যাব-২ এর সিপিসি-৩ এর ভেতরের সেলগুলো পরিদর্শন করেন। এরপর র‌্যাব সদর দপ্তরের টাস্কফোর্স ইন্টেলিজেন্স সেন্টারও পরিদর্শনে যান।

অভিযোগ রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনকালে ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০৫ জনকে গোপনে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। অন্য আরেকটি তথ্যে বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩৪৪ ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ৪০ জনকে। আর ৬৬ জনকে সরকারি হেফাজতে গ্রেপ্তার অবস্থায় পাওয়া গেছে।

যেসব ব্যক্তি দীর্ঘদিন গুম থাকার পর ফিরে এসেছেন, তারা গুমের ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করেছেন। ধারণা করা হয়, এসব মানুষকে গুম করে রাখা হয় আয়নাঘরে। অভিযোগ রয়েছে, আয়নাঘরেই বন্দি ছিলেন- অধ্যাপক মোবাশার হাসান, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান, ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায়, মাইকেল চাকমা ও মীর আহমদ বিন কাসেমসহ অনেকে।

উল্লেখ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে ‘বিশেষ’ স্থানে রাখা হতো। এ নিয়ে সুইডেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নেত্র নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এসব স্থান ‘আয়নাঘর’ নামে প্রকাশ্যে আসে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর আয়নাঘর থেকে ফিরে আসেন পরিবারের কাছে। তাদের বয়ানে উঠে এসেছে আয়নাঘরের ভয়াবহতা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউএনওকে শাসানো সেই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

২৭ আসনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা, কোথায় লড়বেন কে

আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে : আমির হামজা

ফোনের ক্যামেরায় যে কোনো ভাষার লেখা মুহূর্তেই অনুবাদ করবেন যেভাবে

রাজশাহী মিডিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন টেলিভিশন ক্যাপিটালস

‘হ্যাঁ’ গণভোটের পক্ষে সরকারের সমর্থন নিয়ে ব্যাখ্যা দিল প্রেস উইং

আটালান্টায় যোগ দিলেন ইতালির ফরোয়ার্ড

এক দফা দাবিতে মাঠে নামছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা

ফিরছে ‘ফ্যামিলি ফিউড বাংলাদেশ’

তাহসানের ছবি ও পদবি, দুটোই মুছলেন রোজা

১০

খালেদা জিয়া দেশের জনগণের হৃদয়ের স্পন্দন হয়ে থাকবেন : মান্নান

১১

ছিটকে গেলেন বাংলাদেশের সহঅধিনায়ক

১২

বিমানে বোমা আতঙ্ক, জরুরি অবতরণ 

১৩

হজযাত্রীদের টিকা দেওয়া হবে ৮০ কেন্দ্রে

১৪

আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ

১৫

‘ড্রাকশন’ ভাবনায় পিএসএলের খেলোয়াড় বাছাই

১৬

কিডনিতে পাথর হয়েছে কি না, বোঝার সহজ উপায়

১৭

বিএনপির আরও দুজনের প্রার্থিতা বাতিল

১৮

নতুন মোড়কে পুরোনো সিম, ঝুঁকিতে গ্রাহকের নিরাপত্তা

১৯

‘পাগল’ সাজে কে এগিয়ে— মাহি নাকি পায়েল?

২০
X