কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৮:১৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গণঅভ্যুত্থানে ‘মহাকাব্যিক’ বীরত্বগাথা রচনা করে গেছেন জুলাই শহীদরা : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ফটো
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ফটো

জুলাই শহীদরা চব্বিশের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে এক ‘মহাকাব্যিক’ বীরত্বগাথা রচনা করে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই শহীদরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থার। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

বুধবার (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই শহীদদের স্মরণ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের শৃঙ্খল থেকে জাতিকে মুক্ত করার আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদকে। শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের অবদানকে সমুন্নত রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই তাদের পরিবারের কল্যাণে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ এবং ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত ও গেজেটে প্রকাশের কার্যক্রম চলমান আছে। প্রতিটি শহীদ পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা ও মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণেও অনুরূপ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশের পথে দৃপ্ত পদভারে একযোগে সবাই এগিয়ে যাব, আজকের দিনে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করছি।’

দেশে প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে ‘জুলাই শহীদ দিবস’। গত বছরের ১৬ জুলাই ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। এদিন বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা বিলোপের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী পুলিশের গুলিতে ও সন্ত্রাসীদের হামলায় এই দিনে চট্টগ্রাম, রংপুর ও ঢাকায় অন্তত ছয়জন শহীদ হন।

এরপর ক্ষণজন্মা অকুতোভয় এই বীরদের আত্মদান আন্দোলনে তীব্র গতির সঞ্চার করে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে রাজপথে নেমে আসে লাখো শিক্ষার্থী-শ্রমিক-জনতা। আন্দোলনের তীব্রতার সঙ্গে বাড়তে থাকে শহীদদের সংখ্যা। বৈষম্য ও কোটাবিরোধী আন্দোলন অচিরেই রূপ নেয় সরকার পতনের আন্দোলনে। সর্বস্তরের মানুষের দুর্বার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে মুক্তির নতুন সূর্যোদয় হয় বাংলাদেশে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারার সঙ্গে কুর্দিশ নেতার ফোনালাপ

বিপিএল ফাইনালের সময় এগিয়ে আনল বিসিবি

খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিতে বলেছেন : রবিন

রুমিন ফারহানাকে শোকজ, সশরীরে হাজির না হলে ব্যবস্থা

ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা

পঞ্চগড়ে মরহুম ইয়াছিন আলীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিপুন রায়ের

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন / সাইফুল হকের সঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মতবিনিময়

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের টিডিএফ উদ্যোক্তাদের রিফাইন্যান্সিং সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর

প্রার্থীকে বললেন নির্বাচন কমিশনার / ‘ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন, না দিলে জনরোষ তৈরি হবে’

১০

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪ শতাধিক, মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়াল যত

১১

জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১২

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করল ছাত্রদল

১৩

তসলিমা নাসরিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

১৪

তারেক রহমানের সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের নেতাদের সাক্ষাৎ

১৫

২১ জানুয়ারির মধ্যেই ঠিক হবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য

১৬

এশিয়ান টিভির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

১৭

সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম

১৮

নাহিদ ইসলাম ও নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর শোকজের জবাব দিল এনসিপি

১৯

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম : নোমান

২০
X