

বাংলাদেশে সাধারণ জনগণের মধ্যে সামগ্রিক এইচআইভি সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ০১ শতাংশের নিচে, তবে সমকামী যৌন সম্পর্ক, অভিবাসী এবং যারা ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করেন তাদের মতো মূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নীরবে এইচআইভি/এইডস ছিড়িয়ে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বৈশ্বিক এইডস চিকিৎসা সেবাপ্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশে এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশনের (এএইচএফ) আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মূল বক্তব্য প্রদান করেন এএইচএফ-এর এশিয়া ব্যুরোর উপপ্রধান ড. ইউগাগান বাও। তিনি বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ১৭ হাজার ৪৮০ জন মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন, যাদের অধিকাংশ নতুনভাবে সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ২৫-৪৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি, এর পরেই রয়েছে ২০-২৪ বছর বয়সী তরুণরা। গত এক বছরে দেশব্যাপী ১ হাজার ৮৯১টি নতুন এইচআইভি কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। যার মধ্যে ২১৭টি শনাক্ত হয় রোহিঙ্গা (এফডিএমএন) জনগোষ্ঠীর মধ্যে। যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিরোধ, পরীক্ষা এবং যত্নের সুযোগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতিগুলোকে তুলে ধরে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এইচআইভি নির্ণয়, চিকিৎসা কভারেজ এবং সংক্রমণ দমনের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটলেও, পরিষেবাগুলোতে প্রবেশাধিকার এখনো অসম। বর্তমানে দেশব্যাপী মাত্র ২৩টি জেলায় এইচআইভি পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। কুসংস্কার, বৈষম্য এবং সীমিত জনসচেতনতা এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে চলেছে। সরকারি সংস্থা এবং অংশীদার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার মাধ্যমে, এএইচএফ জাতীয় এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল পদ্ধতিগুলোকে ত্বরান্বিত করবে। বাংলাদেশে এই কার্যক্রম চালু করার ফলে এএইচএফ এশিয়া ব্যুরোর পদচিহ্ন ১১টি দেশে বিস্তৃত হলো, যার প্রথম কর্মসূচিটি ভারতে ২০০৪ সালে শুরু হয়েছিল।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (এনএএসসি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ শহীদুল হক।
বক্তব্য রাখেন, ইউএনএআইডস-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সায়মা হক, এএইচএফ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর আক্তার জাহান শিল্পী।
এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং এইচআইভি নিয়ে কাজ করে এমন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন (এএইচএফ) একটি বৈশ্বিক অলাভজনক সংস্থা; যা আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া/প্যাসিফিক অঞ্চল এবং ইউরোপজুড়ে বিশ্বের ৫০টি দেশে ২৮ লাখেরও বেশি মানুষকে অত্যাধুনিক চিকিৎসা এবং সহায়তা প্রদান করছে। এএইচএফ বর্তমানে বিশ্বের এইচআইভি/এইডস চিকিৎসা যত্নের বৃহত্তম অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংস্থা।
মন্তব্য করুন