

বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কর্মসূচি আগামী অর্থবছরেও অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্রমণ এবং মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের জন্য ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।
তিনি জানান, প্রবীণ নাগরিকদের জীবনযাত্রা সহজ ও মর্যাদাপূর্ণ করতে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মাসিক ভাতা ১ হাজার টাকা নির্ধারণের কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ লাখে উন্নীত করা হবে। শিক্ষার স্তরভেদে তাদের মাসিক ভাতার পরিমাণ ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
নতুন অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অন্যদিকে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ (এডিপি) মোট উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
সরকার আশা করছে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাও আরও শক্তিশালী হবে।
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয় ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা) চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি সচল রাখতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ (এডিপি) মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।