কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বিসর্জনে দেবালয়ে ফিরে গেলেন দেবী দুর্গা 

মর্ত্যালোকে ফেরার আমন্ত্রণ জানিয়ে দুর্গাদেবীকে বিদায় দিলেন ভক্তরা। ছবি : সংগৃহীত
মর্ত্যালোকে ফেরার আমন্ত্রণ জানিয়ে দুর্গাদেবীকে বিদায় দিলেন ভক্তরা। ছবি : সংগৃহীত

চোখের জল আর আবারও স্বর্গ থেকে মর্ত্যালোকে ফেরার আমন্ত্রণ জানিয়ে দুর্গাদেবীকে বিদায় দিলেন ভক্তরা। বাবার বাড়ি বেড়ানো শেষে ‘আনন্দময়ী’ দেবী ফিরে গেলেন কৈলাসের দেবালয়ে। নানা উপাচারে বিজয়া দশমী পূজোর পর উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকের বাদ্য, আবির খেলা আর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হলো বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় পার্বণ পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দশভূজা দেবী। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই আগমন ও প্রস্থানের মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত চলে দুর্গোৎসব।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ধর্মদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, মহিষাসুর বধ করার মধ্য দিয়ে আজ বিজয়ী হয়েছেন দুর্গা মা। সে কারণেই আজ আমাদের আনন্দের দিন, আমরা উৎসব করি। জাতি, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষ সবাইকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাই।

বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতায় মঙ্গলবার ৯টা ৫৮ মিনিটের মধ্যে শেষ হয় দশমী বিহিত পূজা। ষোড়ষাপোচারে পূজার পাশাপাশি দেবী প্রতিমার হাতে জরা, পান, শাপলা ডালা দিয়ে আরাধনা করা হয়। সবশেষে দর্পণ বিসর্জনের সময় প্রতিমার সামনে একটি আয়না রেখে তাতে দেবীকে দেখে তার কাছ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য বিদায় নেন ভক্তরা। মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে প্রতিমা থেকে ঘটে এবং ঘট থেকে আবার ভক্তের হৃদয়ে ‘মাকে’ নিয়ে আসাকে বিসর্জন বলে। শ্বশুরালয়ে ফেরার আগে দুর্গতিনাশিনী দেবী দূর্গাকে সিঁদুর, পান আর দুর্বা দিয়ে বরণ কর নেন নারী পূণ্যার্থীরা; এর মধ্য দিয়ে জরা কাটিয়ে পৃথিবী যেন শস্য শ্যামল হয়ে ওঠে, সেই প্রার্থনা করা হয়।

বিজয়া দশমীতে দুপুর থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে রঙ খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। সকলের কল্যাণ ও স্বামীর দীর্ঘায়ু লাভে একে অপরকে ভক্তি সহকারে সিঁদুর পরিয়ে দেন নারীরা। বিদ্যালাভে শিক্ষার্থীরা বই ছুইয়ে নিয়েছেন মায়ের পায়ে। পাখার বাতার, ঢাক, ঝাঁজ আর শঙ্কের বাদ্যে দেবীকে মিষ্টিমুখ করিয়েছেন ভক্তরা। চোখের জলে হাতজোড় করে জানিয়েছেন প্রণাম।

দুপুরে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা এনে জড়ো করা হয় পলাশীর মোড় ও ঢাকেশ্বরী পূজা মণ্ডপ এলাকায়। এরপর সেখান থেকে ক্রমিক নম্বর নিয়ে শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাক-ঢোলের সনাতনি বাদ্যের সঙ্গে আধুনিক উচ্চস্বরের সাউন্ড সিস্টেমে দেবী বন্দনার গানে গানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রা করেন ভক্তরা। স্বল্পগতিতে চলা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে চড়া পূজারিদের পাশাপাশি অনেকে পায়ে হেঁটে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। প্রতিমা ঘাটে নেওয়ার পর ভক্তকূল শেষবারের মতো ধূপধুনো নিয়ে আরতিতে মেতে ওঠেন। শেষে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে নৌকায় তুলে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জন শেষে মন্দিরে শান্তির জল নিয়ে আসা হয়; সন্ধ্যায় মণ্ডপে করা হয় আশীর্বাদ।

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে এ বছর কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সারা দেশে মহা-সমারোহে উৎসবের সমাপ্তি হয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সকাল নয়টা ৫৮ মিনিটের মধ্যে শেষ হয় বিজয়া দশমী বিহিত পূজা। সকাল ১০টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। ১২টা থেকে শুরু হয় সিঁদুর বরণ অনুষ্ঠান। তিনটায় শুরু হওয়া শোভাযাত্রায় অংশ নেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ ও সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল, স্বপ্ন কুমার সাহা, জয়ন্ত সেন দিপু, মিলন কান্তি দত্ত, জয়ন্ত কুমার দেব, তাপস কুমার পাল, বাবুল দেবনাথ, নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, নারায়ণ সাহা মনি, শ্যামল কুমার রায়, কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, ড. তাপস চন্দ্র পাল, শুভাশিষ বিশ্বাস সাধন, মিহির রঞ্জন হাওলাদার, ধ্রুব কুমার লস্কর, বিপ্লব কুমার দে, তাপস কুন্ডু, কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী পিন্টু, সাগর হালদার প্রমুখ।

মহানগর পূজা কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সুষ্ঠুভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দ জানানো হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসব রাঙালির সার্বজনীন জাতীয় উৎসব হিসেবে গণমাধ্যমে তুলে ধরায় অস্রাম্প্রদায়িক চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে বলে মনে করেন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে বলা হয়, আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের মানুষের এই সার্বজনীন বিশ্বাস উৎসবের মধ্য দিয়ে যেমন প্রমাণিত হয়েছে তেমনি ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’-অসাম্প্রদায়িক মানুষের এই বিশ্বাসও প্রমাণিত হবে। এ বছর রাজধানীতে পূজার সংখ্যা ২৪৬টি। সারা দেশে ৩২ হাজার ৪০৭টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৪ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীতে স্বর্গালোক ছেড়ে পৃথিবীতে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়। ২০ অক্টোবর দুর্গাষষ্টীর মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুরু হয়।

পঞ্জিকামতে, দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যে এসেছেন ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে। ফিরবেনও তাতেই। এই বাহনের ফল হলো ‘ছত্রভঙ্গ’। পুরোহিত রাজিব চক্রবর্তী বলেন, ঘোটকে যেহেতু দেবীর আগমন এবং গমন, সেটি অশুভ বার্তা, তবে ভক্তের আরাধনায় দেবীর মন তুষ্ট হলেই মিলবে শান্তি। প্রার্থনায় মায়ের মন ভক্তের জন্য সহানুভূতিশীল হয়। অশুভের বিনাশ হয়, শুভশক্তির জয় হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তি ও সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে

মাদকসেবির হামলায় পুলিশের এসআই আহত

লঞ্চে দুই তরুণীকে মারধরের ঘটনায় মামলা

ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৬ ডাকাত গ্রেপ্তার

দেশের প্রথম বন খেজুর গাছের সন্ধান দিনাজপুরে

ইতালি পালেরমোতে দুই বাংলাদেশি আটক

বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

আ.লীগকে বিচারের আওতায় আনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল গণসংহতি আন্দোলন

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল সোমবার

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনায় বিশ্বকাপ স্থগিত

১০

ইবিতে ‘ডি’ ইউনিটের ফলাফল ঘোষণা

১১

পা দিয়ে লিখে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলেন মানিক

১২

‘কেউ খুশি হয়ে কিছু দিলে সেটা চাঁদাবাজি নয়’

১৩

নাটোরে বিএনপির মতবিনিময় সভায় গুলি ছোড়ার অভিযোগ

১৪

‘হাসিনার সময় ওয়াজ নিষিদ্ধ ছিল’

১৫

হোটেল কর্মচারীর গায়ে গরম মাড় নিক্ষেপ, অতঃপর...

১৬

রাফাল ধ্বংসের বিষয়ে যা বলল ভারতের বিমানবাহিনী

১৭

চাঁদা না পেয়ে চায়ের দোকানে জবি ছাত্রদল নেতার তালা

১৮

ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে দুজনের মৃত্যু

১৯

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধে শরীয়তপুরে মিষ্টি বিতরণ

২০
X