খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে এবং কৃষি ব্যবসায় টেকসই অনুশীলনের প্রচারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশ দশম আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা সম্মেলনের আয়োজন করছে।
আয়োজিত এই সম্মেলনের লক্ষ্য খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও খাদ্য অপচয় সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য মূল স্টেকহোল্ডার, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং শিল্প নেতাদের একত্র করা।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম সরকার তার অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ফোরামটি কৃষি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে যাতে আইএফসির বিভিন্ন খাদ্য নিরাপত্তা অনুশীলনের ওপর ভিত্তি করে খাদ্যকে নিরাপদ, আরও পুষ্টিকর এবং স্থিতিস্থাপক করার কৌশল তারা রপ্ত করতে পারেন।
সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে সহায়তা পেয়ে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে। কৃষি ব্যবসা শিল্পে বেসরকারি ও সরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ফোরামটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, অন্যান্য উদীয়মান বাজারেও খাদ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টায় অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।
দশম আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা ফোরামে ২৪ দেশের ৪৩ জন, আইএফসি প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, শীর্ষ খাদ্য উৎপাদক, নির্মাতা, খুচরা বিক্রেতা, পর্যটন কোম্পানি, কোল্ড চেইন লজিস্টিক সরবরাহকারী, ভোক্তা সংস্থা ও অন্যান্য মূল স্টেকহোল্ডারসহ ৩০০ প্রতিনিধিসহ অংশগ্রহণ করবেন। আগামীকাল রোববার খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।
এ বছরের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘খাদ্য নিরাপদ এবং পুষ্টিকর রাখা, ক্ষতি রোধ করা’ জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে ভালো খাদ্য নিরাপত্তা অনুশীলন, পুষ্টি ও খাদ্য অপচয় হ্রাসের প্রভাবের ওপর আলোকপাত করবে। এটি সম্মেলনে কীভাবে বেসরকারি খাতের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা যায় এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তার ক্ষেত্রও তৈরি করবে।
আইএফসির নিরাপদ খাদ্য প্রতিনিধি বলেন, এ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময় করবে, যা বাংলাদেশে ও বহির্বিশ্বে খাদ্য খাতকে উন্নত করার জন্য সাহায্য করবে। খাদ্য নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের লক্ষ্য বৈশ্বিক ক্ষুধা ও মানব উন্নয়ন সূচকে তার র্যাংকিং উন্নত করতে, পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে কীভাবে খাদ্যের মান উন্নত করে এবং অপচয় কমিয়ে রপ্তানি সুবিধা বাড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন