কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বিভাজিত হওয়ায় আমাদের শিক্ষা বিশ্বমানের হয়নি : মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

রমনা আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ছবি : সৌজন্য
রমনা আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ছবি : সৌজন্য

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা দ্বিধারায় বিভাজিত হওয়ায় স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরেও শিক্ষাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মধুবাগ মাঠে রমনা আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ড. মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কালচারাল শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার, হাতিরঝিল পূর্ব থানা সেক্রেটারি খন্দকার রুহুল আমীন ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন- মাদ্রাসার শিফট ইনচার্জ জামাল উদ্দিন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আবেগ-অনুভূতি, তাহজীব- তামুদ্দন, বোধ-বিশ্বাস অনুযায়ী আমাদের জাতীয় শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে হবে। দেশের সিংহভাগ তথা ৯০ ভাগ মানুষই ধর্মবিশ্বাসে মুসলিম। তাই আমাদের দেশের শিক্ষাকে ইসলামি আদর্শ ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা দ্বিধারায় বিভাজিত হওয়ায় স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরেও শিক্ষাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি। ক্ষমতাসীনরা শুধু নিজেদের স্বার্থেই শিক্ষাকে যুগোপযোগী করে সংস্কার করেনি। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই আমাদেরকে সে অশুভ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বমান বজায় রেখে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। তাহলেই আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা একবিংশ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সমর্থ হবে।

দেশ ও জাতি গঠনের প্রধান সোপান ও অন্যতম অনুসঙ্গ হচ্ছে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; তাই দেশে শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন ও ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক অপরাজনীতিই আমাদের জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জনগণের কাছে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাসীনরা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে শুধুই নিজেদের আখের গুছিয়েছে। শিক্ষাসহ রাষ্ট্রের কোনো সেক্টরেই কার্যকর সংস্কার করা হয়নি। ফলে স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও পদ্ধতি সে সনাতনী এবং নেতিবাচক বৃত্তেই রয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামী দেশে এমন এক শিক্ষা পদ্ধতি চালু করতে চায় যে ব্যবস্থায় শিশু শ্রেণি থেকে সর্বোচ্চ শ্রেণি পর্যন্ত কোরআন, হাদিস ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে সুনাগরিক তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্যও নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। একজন শিক্ষার্থী ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হবেন, ঠিক তেমনিভাবে তিনি আধুনিক শিক্ষায়ও যুগপৎভাবে শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবেন। তিনি শিক্ষার গুণগত পরিবর্তনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সমাজের সচেতন মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাদককাণ্ড / সাভার থানার ওসি ও এসআইয়ের পর অপারেশন পরিদর্শক হেলাল ‘ক্লোজ’

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার যে একাদশ চূড়ান্ত

বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দাবি করা এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে

হোটেলে ‘পানের পিক’ ফেলায় কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

প্রতি মাসে প্রকাশ হবে শাহজালাল মাজারের দানের হিসাব : ডিসি সারওয়ার

শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক

ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল পুলিশ কর্মকর্তার

আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেই নতুন রেকর্ড গড়বেন মেসি

পদ্মা রেলসেতুর নিচের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি, কার ছত্রচ্ছায়ায় চলল এই কাণ্ড

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত

১০

হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে জামায়াত আমিরের শুভেচ্ছা

১১

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

১২

মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় যুবককে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

১৩

সাকিবের পর এবার দীঘির ‘পল্টি’?

১৪

বরিশালজুড়ে হাম পরিস্থিতির মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

১৫

লটকন বাগান দেখাবে বলে ২ শিক্ষার্থীকে অপহরণচেষ্টা

১৬

বকেয়া ৬ কোটি ৬ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করল সিসিক

১৭

যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়েছিল ভাসমান নৌকায়

১৮

বিদেশি নাগরিকদের হেনস্তা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

১৯

সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রাষ্ট্রদূত আনসারীর খোঁজ নিলেন ডা. রফিক

২০
X