

অর্থনৈতিক সংকট ও নিষেধাজ্ঞার চাপে জর্জরিত ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম। একই সঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুধু ইসফাহান প্রদেশেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্য নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ ইউনিটের কমান্ডার জানান, ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিভিন্ন শহরে ‘দাঙ্গা’ দমনের অভিযানে আরও আটজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। এদিকে আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা দাবি করেছে, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত মোট ১০৯ নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
এর পাশাপাশি ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানায়, গোলেস্তান প্রদেশের রাজধানী গোরগানে তাদের একটি ত্রাণ ভবনে হামলার ঘটনায় সংস্থাটির এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ দমনে তৎপরতা জোরদার করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ‘দাঙ্গা’ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেছেন, সহিংসতায় জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
রোববার পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব’ না করার আহ্বান জানান। সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডার কালিবাফ বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড (ইসরায়েল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, কালিবাফের এই বক্তব্য অন্তত কথার দিক থেকে উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ সময় সংসদে কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস হোক’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
এদিকে ইরানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট শাটডাউন ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলছে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস। সংস্থাটি বলেছে, এই সেন্সরশিপ ইরানিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য সরাসরি হুমকি এবং এটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘটছে।
মন্তব্য করুন