

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়তে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি ও বাকলিয়া) আসনে প্রার্থী হয়েছেন একেএম ফজলুল হক। তিনি পেশায় চিকিৎসক হলেও আয়ের উৎস দেখিয়েছেন ব্যবসা ও চাকরিজীবী।
ফজলুল হকের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থাকলেও গত ২৮ ডিসেম্বর তিনি তা ত্যাগ করেছেন বলে হলফনামায় তুলে ধরেছেন। তবে, তার স্বপক্ষে কোনো কাগজ জমা দতে পারেননি। ফলে তার মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এর বিরুদ্ধে তিনি আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফজলুল হক বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার স্ত্রী আমেনা শাহীন শিক্ষকতার পাশাপাশি মেট্রোপলিটন হাসপাতালেরও পরিচালক। তারও সম্পদের পরিমাণ কোটির ঘরে। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হলেও আয়ের উৎস হিসেবে চিকিৎসা পেশার কথা বলেননি। নিজেকে ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী হিসেবে দেখিয়েছেন ফজলুল হক।
হলফনামায় নিজের প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন ফজলুল হক। তার স্ত্রী আমেনা শাহীনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন সাড়ে ৪ কোটি টাকার বেশি। হলফনামায় তার ব্যবসা থেকে বছরে আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ও চাকরি থেকে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৮১২ টাকা ও স্ত্রীর নগদ টাকার পরিমাণ ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ২৩৫ টাকা।
নিজের ব্যাংকে জমা ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩৩ টাকা ও স্ত্রীর ব্যাংকে জমার পরিমাণ ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ১৪ টাকা। বন্ড, শেয়ার ও ঋণপত্র আছে ৪ কোটি ৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৭০ টাকা ও স্ত্রীর আছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমির মূল্য ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৯ টাকা ও স্ত্রীর ৮৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। নিজের নামে একটি ও স্ত্রীর নামে তিনটি ফ্ল্যাটের কথা তুলে ধরেছেন।
বর্তমান করবর্ষে (২০২৫-২৬) তিনি তার বার্ষিক ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২৪৬ টাকা আয় ও ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫১ টাকার সম্পদের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ২ লাখ ৬১ হাজার। তার স্ত্রী আমেনার ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৪ টাকা বার্ষিক আয় ও ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০২ টাকার সম্পদের বিপরীতে ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮৪ টাকা আয়কর দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন