

হজ বান্দার প্রতি স্রষ্টার হক। ঈমানের আলোকিত নিদর্শন। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মানুষের ওপর আল্লাহর বিধান ওই ঘরের হজ করা, যার আছে সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য। (সুরা আলে ইমরান : ৯৭)
সুতরাং হজ আল্লাহর বিধান, আল্লাহর হক। মেহেরবান আল্লাহ এ বিধান কত সহজ করে দিয়েছেন! শুধু সামর্থ্যবানদের জন্য তা ফরজ। তাও আবার সারাজীবনে মাত্র একবার করা।
বিখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হজ একবার। এরপর যে বেশি করে তা ঐচ্ছিক।’ (মুসনাদে আহমদ : ১২০৪)
হজের ফরজ তিনটি। কেউ যদি এই তিনটির কোনো একটি পরিপূর্ণভাবে পালন না করে, তা হলে তার হজ সহিহ হবে না।
নিচে হজের ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ তুলে ধরা হলো :
হজের ফরজ ৩টি
১. ইহরাম বাধা : হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি হজের নিয়ত করবে না তার হজ হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেকের জন্য তাই হবে, যা সে নিয়ত করে।’( বোখারি : ১)
২. আরাফায় অবস্থান : রাসুলুল্লহা (সা.) বলেছেন, ‘হজ হচ্ছে আরাফা।’ (এরওয়াউল গালিল : ৪/২৫৬)
৩. বায়তুল্লাহর তাওয়াফ : বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা ফরজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তারা যেন প্রাচীন ঘরের তাওয়াফ করে।’ (সুরা হজ : ২৯)
হজের ওয়াজিব ৬টি
১. উকুফে মুজদালিফা : জিলহজের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত যেকোনো সময়ে মুজদালিফায় অবস্থান করা। (সুরা বাকারা : ১৯৮)
২. সায়ি : সাফা-মারওয়ায় সাতটি দৌড় । এটিকে সায়ি বলা হয়। দৌড় শুরু হবে সাফা থেকে আর শেষ হবে মারওয়ায়।
৩. কংকর নিক্ষেপ : নির্দিষ্ট দিনগুলোতে জামরাতে রমী তথা শয়তানকে পাথর মারা।
৪. তামাত্তু ও কিরান হজকারীদের দমে শোকর বা হজের কোরবানি করা।
৫. হারাম শরিফের সীমানায় কোরবানির দিনগুলোতে মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা।
৬. বিদায়ী তাওয়াফ করা।
সূত্র : আল কাউসার