

আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য বিসিবি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা ও ভোটার তালিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আরও শুনানির জন্য বুধবার (০৩ জুন) দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (০২ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে এ দিন শুনানিতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও মো. শফিকুল ইসলাম। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিসিবির পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস ও আইনজীবী মাহিন এম রহমান।
শুনানি শেষে বিসিবির আইনজীবী মাহিন এম রহমান বলেন, বিসিবির ছয়জন প্রাক্তন কাউন্সিলর একটি রিট দায়ের করেছেন। এটি আগে একবার দায়ের করা হয়েছিল এবং তখন তাদের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, কিন্তু তারা এটিকে পুনরায় মুভ করেছেন। তারা চ্যালেঞ্জ করেছেন যে, তাদের কাউন্সিলরশিপ কেন বাদ দেওয়া হলো এবং কেন নতুন করে কাউন্সিলর মনোনয়ন দেওয়া হলো না।
এ সময় তিনি তাদের সেই চ্যালেঞ্জের ব্যাখ্যায় বলেন, বিসিবির সংবিধানের ১২.৭ ধারা অনুযায়ী, নতুন বোর্ডের নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন করে কাউন্সিলর মনোনয়ন নিতে হয়। বিগত সময়ে যে ইনস্টিটিউশনগুলো থেকে কাউন্সিলর নমিনেট করা হয়েছিল, এই সংবিধানের ধারা অনুযায়ী তাদের থেকেই নতুন করে কাউন্সিলর নমিনেট করা হয়েছে এবং তারা এখন নতুন নমিনেটেড কাউন্সিলর হিসেবে সাধারণ পরিষদ গঠন করবেন ও ভোট দেবেন।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই কাউন্সিলররা ২০২৬ সালে বোর্ডের যে নির্বাচন হবে, সেখানে ভোট দেবেন। এই বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তারা কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আইসিসির প্রতিনিধিরা বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। ই-ব্যালট কাস্টিং শুরু হয়ে গেছে এবং অনেকেই ভোট দিয়ে ফেলেছেন এবং নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে।
এর আগে গত ১৮ মে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের জন্য কাউন্সিলর মনোনয়ন চেয়ে বিভিন্ন ক্লাবের কাছে পাঠানো নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিতে ছয়জন কাউন্সিলর রিট করেন। রিটের বিবাদীরা হলেন, যুব ও ক্রীড়া সচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান, বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি, বিসিবির প্রধান নির্বাহী, বান্দরবান, খুলনা, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকা জেলার প্রশাসক।
রিটকারীরা হলেন, বিভিন্ন ক্লাবের চার বছরের জন্য মনোনীত কাউন্সিলর আরমানুল ইসলাম নয়ন, মো. নাঈম হাওলাদার, মো. এনামুল আহসান, মো. আবদুল্লাহ অর্ক, আকিব জাভেদ মুন্না ও মো. রাকিবুল ইসলাম।
এই রিটের সঙ্গে গত সোমবার একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। আবেদনে ঘোষিত তপশিলের কার্যক্রম এবং আবেদনকারীদের নাম অন্তর্ভূক্ত তরে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
গত ১৬ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন–২০২৬ এর তপশিল ঘোষণা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়। বিজ্ঞপ্তিতে ৭ জুন পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। গত ১৭ মে বিকেল চারটায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে সরাসরি ভোটে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবে। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) মনোনয়নেও দুজন পরিচালক হবেন। ২৫ পরিচালকের ভোটে একজন সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
আইসিসি প্রতিনিধি দলের বিসিবি সফর:
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুই প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বোর্ড পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেই তাদের এ সফর বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান জানান, আইসিসির প্রতিনিধিরা দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের বর্তমান অবস্থা, বিসিবির কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবেন।
সফরকালে আইসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিসিবির লিগ্যাল টিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই বিষয়ে বিসিবির এই আইনজীবী বলেন, দুবাই থেকে আইসিসির দুজন প্রতিনিধি এসেছেন বাংলাদেশে তারা বোর্ড ভাঙাসহ সার্বিক বিষয় জানতে; বিসিবির লিগ্যাল টিমের সঙ্গে তাদের বৈঠক হবে।
সাবেক বোর্ড পরিচালকেদের বৈঠক :
এদিকে, বাংলাদেশে সফররত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালিত সাবেক বোর্ডের চার কর্মকর্তা ও তাদের নিযুক্ত আইনজীবী। সেই বৈঠকে বোর্ড ভাঙার বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন তারা।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা জানিয়েছেন, অ্যাড-হক কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন। ফলে এই কমিটির অধীনে আয়োজিত কোনো নির্বাচনের আইনি ভিত্তি নেই। আইসিসির সংবিধানের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ক্রিকেট বোর্ডগুলোর কর্মকাণ্ড সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত হতে হবে। অথচ বর্তমান অ্যাড-হক কমিটি সরাসরি সরকারি সংস্থা এনএসসি (NSC) কর্তৃক গঠিত, যা আইসিসির নিয়মের পরিপন্থি বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
তারা আইসিসির কাছে দাবি জানিয়েছেন যে, তারা যেন আগামী ৭ জুনের বিতর্কিত নির্বাচনকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি না দেয়। পাশাপাশি, আইসিসি প্রতিনিধি দলের সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনসম্মুখে একটি স্পষ্ট বক্তব্য প্রদানেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুল নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বিসিবি নেতৃবৃন্দ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে যে, আইসিসির কাছে দেওয়া সব প্রমাণ ও আইনি নথিপত্র পর্যালোচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে এবং বিসিবির গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে।