

নতুন বাজেট ঘোষণার পর ভারতের শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ফিউচার্স ও অপশন (এফ অ্যান্ড ও) ট্রেডে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (এসটিটি) বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপি হ্রাস পেয়েছে।
রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) দ্য ইকোনোমিকস টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, দিনের শেষে বিএসই সেনসেক্স ১ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ৮০ হাজার ৭২২ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ৪৯৫ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৪ হাজার ৮২৫ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে লেনদেন শেষ হয়েছে। এই পতনকে গত কয়েক বছরের মধ্যে বাজেট দিনের সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজার মূলধনের ক্ষতি প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপির কাছাকাছি নেমে এসেছে। বিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত মূলধন ৯ লাখ ৭২ হাজার কোটি রুপি কমে ৪৫০ দশমিক ১৫ লাখ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে।
অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ফিউচার্সে এসটিটি শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ করা হবে। অপশন প্রিমিয়াম এবং অপশন এক্সারসাইজে এসটিটি ০ দশমিক ১০ শতাংশ ও ০ দশমিক ১২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০ দশমিক ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য এফ অ্যান্ড ও সেগমেন্টে অতিরিক্ত স্পেকুলেশন কমানো এবং ছোট বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু এতে ব্রোকারেজ, এক্সচেঞ্জ ও ট্রেডিং-সংশ্লিষ্ট স্টকগুলোতে তীব্র বিক্রি হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনসেক্সের ৩০টি স্টকের মধ্যে এসবিআই, আদানি পোর্টস, বিএইএল, আইটিসি, টাটা স্টিল, হিন্ডালকো, ওএনজিসি-সহ অনেকগুলো ৪ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ব্রোকারেজ ফার্ম যেমন অ্যাঞ্জেল ওয়ান, বিএসই, গ্রো-এর শেয়ার ৮ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বাজেটকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই বাজেট ভারতের সংস্কারের পথে নতুন গতি যোগ করেছে। যুবসমাজের জন্য মুক্ত আকাশ খুলে দিয়েছে। রাজস্ব ঘাটতি কমানো, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এটি বিকশিত ভারতের দিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি।
মন্তব্য করুন