

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তাজা গুলি ছুড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনারা। এতে বিক্ষোভকারীরা পিছু না হটে বরং নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছেন। বিভিন্ন স্থানে একের পর এক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় এত মানুষ হতাহত হয়েছেন, অনেক হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মর্গগুলো লাশে ভর্তি হয়ে গেছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, আহদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকসহ হাসপাতালগুলোর কর্মীদের। অপরদিকে নিহতের স্বজনদের আর্তনাদে ভারি হয়ে গেছে আকাশ-বাতাস।
ইরানের ৩টি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বিবিসির সাথে কথা বলেছেন, তারা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালগুলাে সংঘাত-সহিংসতায় আহত ও নিহতদের ভিড় সামলাতে সমস্যায় পড়ছে।
হতাহতদের বেশিরভাগের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
তেহরানের একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বিবিসিকে বলেন, ‘অনেক তরুণের মাথায় এবং বুকে সরাসরি গুলি লেগেছে।’
তেহরানের আরেকটি হাসপাতালের কর্মীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, শরীরে গুলি এবং রাবার বুলেটের ক্ষত নিয়ে আসা বহু মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছেন তারা।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইরানি দূতাবাস। তারা এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উল্লেখ করেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই (৮৬) নাকি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে নিরাপত্তা বাহিনী বা সেনাবাহিনী যদি সরকারের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে খামেনিই তার পরিবারের প্রায় ২০ জন সদস্যকে নিয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারেন বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি তার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে এই দাবি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব। তারা উল্লেখ করে, ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও খামেনিই দেশ ছাড়েননি। সুতরাং বিক্ষোভের কারণে তার দেশত্যাগের খবর সম্পূর্ণ অসত্য। দূতাবাস একে শত্রু রাষ্ট্রগুলোর অপপ্রচার বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানায়।
মন্তব্য করুন