

ভারতের মুম্বাই থেকে অবৈধ অভিবাসী উচ্ছেদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে একটি আধুনিক এআই টুল তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস।
রোববার (১১ জানুয়ারি) মুম্বাই পৌরসভা (বিএমসি) নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন ‘মহায়ুতি’ জোটের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। খবর এনডিটিভির।
বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিস বলেন, আমরা মুম্বাইকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গামুক্ত করব। আইআইটির সহায়তায় একটি এআই টুল তৈরি করা হবে, যা সহজেই অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে পারবে।
পাশাপাশি তিনি প্রতিটি পৌর স্কুলে এআই ল্যাব স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এই জোট ‘প্রযুক্তিনির্ভর শাসন’ প্রতিষ্ঠা এবং মুম্বাইকে ‘বৈশ্বিক পাওয়ার হাউস’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, অভিবাসীরা প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে জাল নথিপত্র সংগ্রহ করে এবং পরে মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে- এমন একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি তাদের নজরে এসেছে।
বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে ফড়নবিস বলেন, মুম্বাইয়ে বসবাসরত বৈধ অ-মারাঠি ভাষাভাষীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তার দাবি, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
তিনি জানান, এনডিএ সরকারের মূল লক্ষ্য মুম্বাইকে একটি টেকসই ও প্রাণবন্ত মহানগরীতে রূপান্তর করা। এ লক্ষ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধের পাশাপাশি শহরের যানজট নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস। দলটির মুখপাত্র শচীন সাওয়ান্ত ফড়নবিসকে ‘স্বপ্নের সওদাগর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী রেকর্ডসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী শনাক্তের দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক তথ্য বা পরিসংখ্যান জনসমক্ষে উপস্থাপন করছেন না।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি সত্যিই সর্বোচ্চসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করে থাকে, তবে সেই পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করা উচিত।
শচীন সাওয়ান্ত অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুধু ভবিষ্যতের বড় বড় স্বপ্ন দেখান, কিন্তু অতীতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। ২০১৭ সালের মধ্যে মুম্বাইকে বন্যামুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত ডেডলাইনগুলো কেবলই তারিখের পর তারিখ হয়ে থেকে যায়।
মন্তব্য করুন