

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপসহ ‘খুব শক্তিশালী বিকল্প’ বিবেচনা করছে মার্কিন সেনাবাহিনী—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও হত্যার ঘটনায় দেশটি তার আগে ঘোষিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করছে কি না—এমন প্রশ্নে দেখে মনে হচ্ছে তারা তা শুরু করেছে।
ট্রাম্প বলেন, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের সেনাবাহিনী এটি দেখছে এবং আমরা কয়েকটি খুব শক্তিশালী বিকল্প বিবেচনা করছি। শিগগির একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দেশটিতে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়নের ক্রমবর্ধমান প্রতিবেদনের মধ্যেই এ মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।
এদিকে নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পোস্ট করা ছবির নিচে লেখা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার এক সপ্তাহ পর ট্রাম্পের এই ঘোষণায় লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি ঝটিকা অভিযান চালায়। ওই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা মাদক পাচারের অভিযোগে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছেন। ওই অভিযানে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি জানান, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের তদারকি ওয়াশিংটনের হাতে থাকবে এবং পরে ‘উপযুক্ত সময়ে’ তা দেশটির সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন