

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গঠনমূলক শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি বিবৃতিতে এমনটা বলা হয়েছে।
ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সহায়তা করে একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে স্বাগত জানানোর সময় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন তিনি।
ঐতিহাসিক এ আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন প্রতিনিধিদল আজ শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। ইরানের প্রতিনিধিদল পৌঁছেছে গতকাল শুক্রবার রাতে।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তার নেতৃত্বে থাকছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।
তবে আলোচনার বিষয়ে এখনো দুই দেশের মতপার্থক্য রয়েছে। আলোচনার উদ্দেশে ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ১৫ দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
ইরানের প্রধান দাবিগুলো হলো, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান, সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা ও হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার মতো বিষয়।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে দুই দেশই নিজেদের জায়গা থেকে যৌক্তিক ও গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেবে বলে আশাবাদী মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান।