

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে হওয়া নতুন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক এক মার্কিন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তির অনুমোদন দেন। এই চুক্তির আওতায় দেশটি বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নিজস্ব জ্বালানি সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে এবং কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক তদারকি ব্যবস্থার বাইরে যাওয়ার সুযোগও সৃষ্টি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক জ্বালানি সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা ভবিষ্যতে তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথও উন্মুক্ত করতে পারে। ফলে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যেও বিতর্কের জন্ম দেবে।
সাবেক পেন্টাগন উপদেষ্টা জেসমিন এল গামাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ইরান অবশ্যই প্রশ্ন তুলবে যুক্তরাষ্ট্র যদি সৌদি আরবের সঙ্গে এ ধরনের পারমাণবিক সহযোগিতা করতে পারে, তাহলে আমাদের ক্ষেত্রে এত কঠোর শর্ত কেন আরোপ করা হচ্ছে?
তার মতে, এই চুক্তি ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, বিশেষ করে যখন ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার নীতি অনুসরণ করছে।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষাচুক্তি চেয়ে আসছে, যা মার্কিন সিনেট অনুমোদন করবে। এতে ভবিষ্যতের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট সহজে চুক্তি থেকে সরে আসতে পারবেন না। সৌদি কর্মকর্তাদের মতে, এমন একটি চুক্তি ইরানের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতেও সহায়ক হবে।
গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় সম্মত হলেও পরবর্তী সময় সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। ফলে নতুন এই চুক্তি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সংলাপকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।