

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেছেন, ‘আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি’। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ৪.২ শতাংশে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তার ভাষায়, ‘না, আমি এটা ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো দুর্দান্ত ছিল।’
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা টানা তৃতীয় মাসের মতো বৃদ্ধি এবং প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়। এর আগে মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩.৩ শতাংশ এবং এপ্রিলে তা বেড়ে ৩.৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ফেব্রুয়ারিতে এ হার ছিল ২.৪ শতাংশ।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অজান্তে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “তাই এখন তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারের কাছাকাছি।”
তবে ট্রাম্পের করা বেশ কয়েকটি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জাহাজ ধ্বংস ও তেলের বাজারে তার সরাসরি প্রভাব সংক্রান্ত বক্তব্যের পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সংঘাত শুরুর আগেই তিনি এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেছিলেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির ধারাবাহিক বৃদ্ধি ভোক্তা ব্যয়, সুদের হার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।