

বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পেয়েছে পর্তুগাল। তবে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের রাতটি অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য সুখকর ছিল না। একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পর্তুগিজ মহাতারকাকে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১০ জুন) রাতে লেইরিয়ার এস্তাদিও ডক্টর মাগালহায়েস পেসোয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রবার্তো মার্তিনেজের দল কষ্টার্জিত জয় তুলে নেয়। ফলাফলের পাশাপাশি ম্যাচজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো, যিনি গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও অন্তত দুটি নিশ্চিত সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।
প্রথমার্ধেই পর্তুগালকে এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে ফাঁকা গোলের সামনে থেকেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর নিজের হতাশা লুকাতে পারেননি তিনি। মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফরোয়ার্ডকে। মুহূর্তটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে রোনালদো ব্যর্থ হলেও ২৩তম মিনিটে পেদ্রো নেতোর দুর্দান্ত বাম পায়ের শটে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। কিন্তু সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৩৭তম মিনিটে আকোর অ্যাডামস গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান নাইজেরিয়ার হয়ে।
বিরতির পর আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে কৌশলগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে রোনালদোকে তুলে নেওয়া হয়। তার জায়গায় মাঠে নামেন গনজালো রামোস। বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির আগে অভিজ্ঞ অধিনায়কের শারীরিক চাপ কমাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা যায়।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী গোলটি আসে ৭৫তম মিনিটে। বদলি হিসেবে নামা ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে দারুণ এক কার্লিং শটে নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক মাদুকা ওকোয়েকে পরাস্ত করেন। সেই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।
ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় বিষয় হয়ে ওঠে রোনালদোর পারফরম্যান্স। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই তারকা ম্যাচটিতে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বর্তমান ফর্ম ও বয়সজনিত সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে পর্তুগাল শিবিরে এখনো তিনিই সবচেয়ে বড় ভরসার নাম। বিশ্বকাপের ইতিহাসে রেকর্ড স্পর্শ করা ষষ্ঠ আসরে খেলতে যাচ্ছেন তিনি, আর দলও তাকিয়ে আছে তার নেতৃত্বের দিকেই।
প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে পর্তুগাল। শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে রবার্তো মার্তিনেজের দল এবার বিশ্ব শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রুপ ‘কে’-তে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি), উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। আগামী ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে ডিআরসির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইউরোপের দলটি। এরপর তারা মুখোমুখি হবে উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ নাইজেরিয়া এখন মনোযোগ দেবে ২০২৭ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে। দীর্ঘ ক্লাব মৌসুম শেষে বিশ্রামে থাকায় এ ম্যাচে খেলেননি দলটির দুই প্রধান তারকা ভিক্টর ওসিমেন ও অ্যাডেমোলা লুকম্যান।
বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পেলেও রোনালদোর মিস করা সুযোগগুলো যে পর্তুগাল সমর্থকদের কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে, তা বলাই যায়। তবে উত্তর আমেরিকার মাটিতে আরেকটি ঐতিহাসিক অভিযানের স্বপ্ন নিয়েই এখন বিশ্বমঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছে পর্তুগাল।