

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে এবং অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলাকালে মেক্সিকান নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে মেক্সিকো। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্বে ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন অভিযান বা আইসিই হেফাজতে ১৭ জন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে মেক্সিকোর দাবি।
এ ঘটনায় মেক্সিকো বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রসিকিউটরদের কাছে অভিযোগ দায়ের শুরু করেছে। পাশাপাশি যেসব আটককেন্দ্রে মেক্সিকান নাগরিকদের মৃত্যু হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রথম নোটিশ পাঠানো হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাডেলান্টো ডিটেনশন সেন্টারে, সেখানে চারজন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মেক্সিকো।
মেক্সিকোর অভিযোগ, চিকিৎসাসেবা দিতে বিলম্ব এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আটকনীতি এসব মৃত্যুর জন্য ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এসব কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে।
এ ছাড়া ওয়াশিংটনে অবস্থিত মেক্সিকান দূতাবাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে দেশটির কনস্যুলার নেটওয়ার্ক ভুক্তভোগীদের মামলা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের প্রসিকিউটরদের কাছে উপস্থাপনে সহায়তা করছে।
মেক্সিকোর উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো ভেলাস্কো আলভারেজ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া এবং ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা তদন্তের আহ্বান জানান।
গত ৭ জুলাই টেক্সাসের হিউস্টনে আইসিইর এক অভিযানে মেক্সিকান নাগরিক লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। সোমবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মেক্সিকানদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মেক্সিকো নীরব থাকতে পারে না।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংঘাত চায় না; বরং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।