

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ইসরায়েলের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১০০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য। এই ভোট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েল ইস্যুতে মতপার্থক্যকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রিপাবলিকান সদস্য থমাস ম্যাসি উত্থাপিত সংশোধনী প্রস্তাবের পক্ষে ১০৩ জন ডেমোক্র্যাট ভোট দেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচক এবং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তোলা ম্যাসির প্রস্তাবে একজন রিপাবলিকান সদস্যও সমর্থন দেন। খবর সিএনএন-এর।
তবে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩১৪টি । ৯৮ জন ডেমোক্র্যাটের বিপক্ষে ভোট দেন এবং ১০ জন ‘উপস্থিত’ ভোট দিয়ে কোনো পক্ষ নেননি।
ইস্যুটি নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বও বিভক্ত হয়ে পড়ে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস এবং ডেমোক্র্যাটিক ককাসের চেয়ারম্যান পিট আগুইলার প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্কের পক্ষে ভোট দেন।
ভোটের ফলকে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটরা। তাদের দাবি, প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রথম সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাট ইসরায়েলের জন্য বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা আটকে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিলেন। দুই বছর আগেও একই ধরনের একটি প্রস্তাবে মাত্র ৩৭ জন ডেমোক্র্যাট সমর্থন দিয়েছিলেন।
দলীয় নেতৃত্ব আগেই বুঝতে পেরেছিল, এই ইস্যুতে সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তাই ভোটের আগে কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নিতে সদস্যদের ওপর চাপ দেওয়া হয়নি। হাকিম জেফরিস সবাইকে নিজ নিজ বিবেক অনুযায়ী ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ভোটের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগত বৈঠকেও আলোচনা করেন।
প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া ক্যাথরিন ক্লার্ক বলেন, তিনি মনে করেন সংশোধনীটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল, কারণ এতে গাজায় ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও বেসামরিক মানুষের জন্য মানবিক সহায়তাও বন্ধ হয়ে যেত।
অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়া ডেমোক্র্যাট সদস্য মার্ক পোকান বলেন, ‘এটি এমন একটি প্রস্তাব ছিল, যা কোনোভাবেই পাস হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। তবে হাকিম জেফরিসের কৃতিত্ব হলো, তিনি সবাইকে বিবেক অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।’
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েল-নীতি নিয়ে অবস্থান পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে দলের প্রগতিশীল অংশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতি এবং ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনের ধরন বদলের জোর দাবি জানিয়ে আসছে।