

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) গতকাল রোববার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। ওই নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই। এরপর থেকে প্রতি বছর এদিন প্রতিবাদ কর্মসূচি করে দলটি। একই সঙ্গে গত শুক্রবার ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় একটি ইমামবাড়িতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে এদিন শোক দিবসও পালন করা হয়।
পিটিআই নেতা আসাদ কাইসার বলেন, রোববার জাতীয় শোক দিবস পালনের পাশাপাশি সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদে দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হয়। তার ভাষায়, ৮ ফেব্রুয়ারি শুধু পিটিআই বা দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের বিষয় নয়, বরং এদিন পুরো জাতিকে গণতন্ত্র ও প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কারচুপির বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শাটডাউন ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। পিটিআই এবং বিরোধী জোট তেহরিক-ই-তাহাফুজ আইন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি) গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এর আগে এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ে ১০টি কমিটি গঠন করা হয়। পিটিআই ইসলামাবাদ শাখার সভাপতি আমির মুগল বলেন, রোববারের কর্মসূচিতে শোক পালন ও প্রতিবাদ একসঙ্গে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পিটিআই কর্মীদের গ্রেপ্তার ও দমনে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় রাজধানীর নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ে। তার দাবি, এর ফলেই শুক্রবারের আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত ৩৬ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন।
পাঞ্জাবে পিটিআই ‘নীরব আন্দোলন’ পালন করে। দলটি জনগণকে স্বেচ্ছায় ঘরে থাকতে, দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ রাখতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা এই আন্দোলনের মাধ্যমে ‘ফর্ম-৪৭ সরকার’-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে জনগণের রায় চুরির অভিযোগ রয়েছে। দলীয় কর্মীরা লিফলেট বিতরণ করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পরিবহন সংগঠনের সমর্থন চেয়েছেন।
পিটিআই পাঞ্জাবের প্রধান সংগঠক আলিয়া হামজা মালিক জনগণকে বাইরে না বের হওয়ার আহ্বান জানান এবং মাগরিবের নামাজের পর মশাল মিছিলের ডাক দেন। তিনি বলেন, ইমরান খানের মুক্তির জন্য এ আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় জেলা ও তহসিল পর্যায়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পিটিআই নেতারা নিজ নিজ এলাকায় কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন।