জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের আত্মস্বীকৃত খুনিদের মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন এখনো পলাতক। এর মধ্যে এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী কানাডায় এবং রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক বলে তথ্য আছে সরকারের কাছে। অবস্থান জানা থাকলেও তাদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। বাকি তিন পলাতক খুনির তথ্য এখনো অজানা। দুই বছর আগেই ওই তিন খুনির তথ্য প্রদানকারীকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। গতকাল সোমবার এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফের পলাতক খুনিদের তথ্য দানকারীকে সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করে সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু সদস্য। বিদেশে থাকায় বেঁচে যান তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। খুনিদের দায়মুক্তি দিতে আইন হলেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শুরু করে। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকার দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল এ মামলায় ১৫ জনের ফাঁসির রায় দেন। পরে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বাকি সাত খুনির মধ্যে খুনি আজিজ পাশা ২০০১ সালের জুনে জিম্বাবুয়েতে মারা যায়। এ ছাড়া আবদুল মাজেদকে ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল রাজধানীর গাবতলী থেকে গ্রেপ্তার করে ১১ এপ্রিল ফাঁসি কার্যকর করা হয়। পলাতক পাঁচ খুনির মধ্যে খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। আর দুই খুনির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলেও ফিরিয়ে আনা যায়নি।
জানা যায়, পালিয়ে থাকা রাশেদ চৌধুরীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত মার্কিন সরকার পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রে রাশেদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আর কোনো অগ্রগতি জানা যায়নি। সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারকে প্রশ্ন করা হলে কৌশলী জবাবে তিনি বলেন, প্রত্যর্পণের বিষয়ে মন্তব্য করব না।
কানাডায় অবস্থানরত অন্য আসামি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেছে সরকার। তবে আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। কানাডার আইনে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ। অন্য দেশের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকেও তাই তারা ফেরত পাঠাতে পারে না।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমেরিকায় থাকা খুনি রাশেদ এবং কানাডায় থাকা নূরকে ফিরিয়ে আনতে অনেক চিঠিপত্র লিখেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়েও আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়েছি। ড. মোমেন আরও বলেন, পলাতক আসামির সম্পর্কে কানাডা সরকার তথ্য না দিয়ে অজুহাত দেখাচ্ছে বারবার। বাকি পলাতক খুনিদের সম্পর্কে জানা নেই।
মন্তব্য করুন