

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেছেন, সিলেটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থামূলক প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠে গোয়েন্দা পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশের নজরদারি থাকবে। সে সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।
এ সময় তিনি এ জনসভাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতার শঙ্কা নেই বলেও উল্লেখ করেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভা করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের সব প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেবেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে নিজের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মতোই হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরানের (রহ.) মাজার জিয়ারত এবং পরদিন সকালে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন।
তারেক রহমানের আগমন ও জনসভা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জনসভাকে কেন্দ্র করে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরই অংশ হিসেবে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুস। পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুস কালবেলাকে বলেন, জনসভা ঘিরে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থামূলক প্রস্তুতি নিয়ে আগেই রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠে গোয়েন্দা পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশের নজরদারি থাকবে। সেই সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে। এ সময় তিনি এ জনসভাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতার শঙ্কা নেই বলেও উল্লেখ করেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, জনসভাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যানবাহন চলাচল ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
এদিকে, তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে সিলেটজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা জনসভায় যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আয়োজকরা আশা করছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে জনসভা সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। ফেরার সময় তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত পৃথক দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। পথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সভা করার কথা রয়েছে বলেও দলীয় নেতারা বলছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর রিকাবী বাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তারেক রহমানের ছবি সংবলিত তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজনো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে রয়েছে জনসভার প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুন। নগরজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের চারপাশ সাজানো হয়েছে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুনে। মাদ্রাসা মাঠে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এবং খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে সব কয়টি নির্বাচনে সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। সে ধারাবাহিকতা তারেক রহমানও বজায় রেখেছেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সমাবেশ শুরু হবে। বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা আগের রাতেই মাঠে অবস্থান নেবেন। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই জনসভার মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে এবং এটি দেশের রাজনীতিতে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
মন্তব্য করুন