কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শিগগিরই তাপমাত্রার সর্বোচ্চ সীমা ছাড়াতে পারে, এরপর কী হবে?

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আগামী এক দশকের মধ্যেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৫-এ এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি প্রত্যাশিত হলেও এটি খুবই উদ্বেগজনক।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য ছিল বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। কারণ এই সীমা অতিক্রম করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। যেমন খরা, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও ঝড় অনেক বেড়ে যাবে। কিন্তু রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে বিশ্ব এখনো প্রয়োজনীয় অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

ইউএনইপির জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগ প্রধান মার্টিন ক্রাউসে বলেন, সব সতর্কতার পরও বিশ্ব রেকর্ড পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করছে। তাই এ ফলাফল অপ্রত্যাশিত নয়। তবে এটি সবার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৪ সালে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ এখন অন্তত ২০ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই গ্যাসগুলো পৃথিবীর চারপাশে চাদরের মতো তাপ আটকে রাখে, ফলে তাপমাত্রা বাড়ছে।

ইউএনইপি বলছে, দেশগুলো যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়নও করে, তবুও শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ২ দশমিক ৩ থেকে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এটি জলবায়ু ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলতে যথেষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা জানান, একক কোনো বছরে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছাড়ানো চূড়ান্ত ব্যর্থতা নয়। দীর্ঘমেয়াদি গড় তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দীর্ঘমেয়াদি গড় তাপমাত্রাই আগামী ১০ বছরের মধ্যে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি ছাড়াতে পারে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নিঃসরণ প্রায় ৫৫ শতাংশ কমাতে হবে, যা বর্তমান প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক বেশি। তুলনামূলকভাবে ২ ডিগ্রি সীমা ধরে রাখতে হলেও নিঃসরণ কমাতে হবে প্রায় ৩৫ শতাংশ।

ইউএনইপি সতর্ক করে বলেছে, এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এই সীমা অতিক্রম যত কম এবং যত অল্প সময়ের জন্য হয়, তা নিশ্চিত করা। কারণ উষ্ণতার মাত্রা কমাতে পারলে মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও প্রকৃতি রক্ষা করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কার জরুরি।

আশার খবর হলো, প্যারিস চুক্তির পর গত এক দশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে এবং এর খরচও কমেছে। ইউএনইপি বলছে, প্রযুক্তি ও জ্ঞান আমাদের হাতে আছে। এখন এ সংকট নিরসণে প্রয়োজন শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

কালবেলা/পিআর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানকে রাশিয়া ও চীন বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে, দাবি পিট হেগসেথের

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড ১৮৫ পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু আজ

টিভিতে আজকের যত খেলা

মিনিবাস-ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

চায়ের গ্লাসে ইস্তাম্বুলের গল্প: প্রতিটি চুমুকে মিশে আছে অটোমান ঐতিহ্য

স্বর্ণের আজকের বাজারদর

জর্ডানে হামলায় নিখোঁজ মার্কিন সেনা নিহত বলে ধারণা পেন্টাগনের

ইতিহাসের এই দিনে স্মরণীয় ঘটনা

২২ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠতে পারেন জোসেফ আউন: ট্রাম্প

১০

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না: ইসি সচিব

১১

ইরানে টানা ১১তম রাতে হামলা করল যুক্তরাষ্ট্র

১২

কুকুরের কামড়ে আহত বিচারক, এক বছরে শতাধিক আক্রান্ত

১৩

‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসান চান মোজতবা খামেনি

১৪

ব্র্যাক এনজিওতে নিয়োগ, নেই বয়সসীমা

১৫

ইরানের বিরুদ্ধে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম

১৬

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের হামাদান প্রদেশে নতুন করে উত্তেজনা

১৭

বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১৮

দুপুর ১টার মধ্যে দেশের যেসব অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি হতে পারে

১৯

এমপির নির্দেশে উন্মুক্ত হলো তিন বছর ধরে বন্ধ কালভার্ট, জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি ৩০০ পরিবারের

২০
X