সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। ছবি : কালবেলা
ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। ছবি : কালবেলা

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে তিন গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র দা, বটি, টেঁটা, বল্লম, লোহার রড ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল মোতায়েন করা হয়।

সরেজমিনে জানা যায়, পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খাসেরগাঁও গ্রামের মনির হোসেন ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের রাসেল মিয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের পাঁচানি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদের দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ পাঁচানি গ্রামের বজলু মিয়া অভিযোগ করেন, খাসেরগাঁও ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের মনির মেম্বার ও রাসেল মিয়া তাদের লোকজন দিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও ডাকাতি চালায়। আমরা এর প্রতিবাদ করায় আজ দুপুরে প্রায় তিন শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের গ্রামে ঢুকে বাড়িঘর ও দোকানপাটে লুটপাট চালায়। আমাদের অন্তত ১০–১২ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। এমনকি আগুন ধরিয়ে দেয় বাড়িঘর ও দোকানে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে মসজিদের ছাদে আশ্রয় নিলে সেখানেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে মসজিদের গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়।

অন্যদিকে ছোট কোরবানপুর গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাঁচানি গ্রামের হামিদ মিয়া একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করে রেখেছে। সকালে আমাদের ছেলেরা নদীতে গেলে হামিদ মিয়ার লোকজন তাদের মারধর করে আহত করে। পরে উত্তেজিত হয়ে আমাদের লোকজন তাদের গ্রামে যায়। এতে দুই পক্ষের লোকজনই আহত হয়।

পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। গত সপ্তাহে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান বলে জানান।

সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিবুল্লাহ বলেন, আমি নিজে ঘটনাস্থলে রয়েছি। পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। প্রশাসনের লোকজন সরে গেলেই পুনরায় হামলার চেষ্টা করছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি শান্ত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বায়ুদূষণে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ঢাকা

শান্তিচুক্তি থাকা সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলের হামলা 

বিসিবির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে আইসিসি

হেনস্তার শিকার মৌনী রায়

এমবাপ্পের জোড়া গোলে লা লিগার শীর্ষে রিয়াল

এডাস্ট আইডিয়া স্টোরে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ওয়ার্কশপ

চট্টগ্রামে বিএনপির শক্তি ফিরছে

আ.লীগ নেতাকে ধরতে গিয়ে বিএনপি কর্মীর মৃত্যু

বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসির সিদ্ধান্তে দুই সাবেক তারকার ক্ষোভ

চট্টগ্রামে পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

১০

তারেক রহমানের জনসভাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার

১১

পাকিস্তানে হোটেলে ভয়াবহ আগুন

১২

রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শিক্ষার্থীসহ নিহত ২

১৩

রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, দেখবেন যেভাবে

১৪

সবশেষ বাড়ানো দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে আজ

১৫

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / ‘বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত পাকিস্তানের’

১৬

বিএনপি হারলে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তও পরাজিত হবে: রাশেদ খান

১৭

যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বাতিল ১৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট

১৮

কারাফটকে শেষ দেখা, মা-শিশুর পাশাপাশি দাফন

১৯

অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে ভারত : প্রণয় ভার্মা

২০
X