

দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই ফেরার দিনটিকে ‘অবিস্মরণীয়’ করে রাখতে রাজধানী ঢাকায় স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। তবে নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তাও রয়েছে। তাই তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে তার নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) দেওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে শিগগির সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর গতকাল বিকেলে কালবেলাকে বলেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন। তিনি দেশের সবচেয়ে বড় দলের গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। স্বাভাবিকভাবেই তার নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিবেচনায় আমরা তার নিরাপত্তার জন্য শিগগির সরকারের কাছে আবেদন করব।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখন সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাইব, কে কতটুকু নিরাপত্তা পাবেন, সে দায়িত্ব সরকারের। সরকার অবশ্যই দেশের চলমান পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো জানবে।
সরকার সব কিছু বিবেচনা করেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তায় দলীয়ভাবেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)’ পুনর্গঠন করা হয়েছে। সিএসএফের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে সিএসএফের দায়িত্ব নিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামসুল ইসলাম। ঢাকায় ফেরার পর তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সিএসএফ কাজ করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য শাশুড়ি খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রায় সঙ্গী হতে গত ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছান বড় পুত্রবধূ ও তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তার নিরাপত্তায় শুরু থেকেই সিএসএফ কাজ করছে।
এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) ঘোষণা করে তার জন্য এসএসএফ মোতায়েন করেছে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিনটি অবিস্মরণীয় করতে সারা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ মানুষ ঢাকায় আসবেন। বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে গুলশান-বনানী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় জনসমাগম ঘটবে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতে আজ সোমবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
গতকাল বিকেলে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনটিকে ‘অবিস্মরণীয়’ করে রাখতে চায় বিএনপি। এজন্য তারেক রহমানের ফেরার দিন রাজধানী ঢাকায় স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা করছে দল। এ লক্ষ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সার্বিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে। কেন্দ্রীয় বিএনপির সমন্বয়ে দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৬ আসনে দলীয় প্রার্থী আমিনুল হক কালবেলাকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়ে দলে আলোচনা চলছে। শিগগির তা চূড়ান্ত হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ কালবেলাকে বলেন, দীর্ঘদিন পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। তাকে সংবর্ধনা-স্বাগত জানাতে আমরা বিশদ কর্মপরিকল্পনা নিচ্ছি। যথাসময়ে তা প্রকাশ করা হবে।
এদিকে তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তাকে নজিরবিহীন সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাজধানীতে এক আলোচনায় সভায় তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করতে চাই যে, আমাদের নেতা দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর ইনশাআল্লাহ আগামী ২৫ ডিসেম্বর আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হবেন। এটা আমাদের জন্য অনেক অনুপ্রেরণার বিষয়। আসুন, আমরা ২৫ তারিখে তাকে এমন এক সংবর্ধনা জানাই, যেটা অতীতে কখনো কোনো নেতা বাংলাদেশে পায়নি। আমরা সবাই প্রস্তুত আছি, ইনশাআল্লাহ।
লন্ডনে পরিবার নিয়ে বসবাস করা তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবর আসে গত শুক্রবার রাতে। এই ঘোষণার পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক উত্তরণের পথে নতুন গতি আনবে।
তারেক রহমান ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন। প্রায় ১৮ মাস কারান্তরীণ থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি পান তিনি। এরপর ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান।
আগামীকাল লন্ডনে তারেক রহমানের সভা: দেশে ফেরার আগে লন্ডনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়ন হলে যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক গতকাল সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।