কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৪, ০২:৩৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানির নিচে ঢাকার সড়ক

এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানির নিচে ঢাকার সড়ক

রাজধানী ঢাকার আকাশ গতকাল শনিবার ভোর থেকেই ছিল মেঘলা। সকাল সোয়া ৭টা থেকে শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গতকাল এক ঘণ্টায় ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা এই বছর রাজধানীতে সর্বোচ্চ। ঝুম বৃষ্টি স্বস্তি দিলেও ডুবে গিয়েছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়কসহ অলিগলি। অনেক এলাকার ফুটপাতও ছিল পানির নিচে। দুপুর ১টা পর্যন্ত পানি জমে থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির শিকার হয় নগরবাসী।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, সকাল সোয়া ৭টা থেকে সোয়া ৮টা পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি হয়েছে। এরপর বৃষ্টি হয়েছে, তবে হালকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টিতে দক্ষিণখান, উত্তরখান, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর ১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তা, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড-সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায়, মোহাম্মদপুর, ইসিবি, নূরেরচালা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন স্থানে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পানি জমে ছিল। কোথাও কোথাও দুপুরের পরও পানি জমে ছিল।

এ ছাড়া মিরপুর ১৪, ১০, ১১, ১২ ও ২ নম্বর এলাকার রাস্তায় পানি জমে। কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী রোডসহ ধানমন্ডি ২৭ এলাকার সড়কে দেখা গেছে জলাবদ্ধতা। কিছু কিছু এলাকার সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। পল্লবী থানা এলাকায় কালশী রোডে কোথাও বুকসমান পানি, আবার কোথাও হাঁটুপানি। কালশীতে জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকেও আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের ইউনিক বাসস্ট্যান্ড থেকে জামগড়া পর্যন্ত সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখা গেছে। বৃষ্টি না হলেও এই সড়কটিতে কলকারখানার পানি জমে থাকে মাসের পর মাস। ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের সঙ্গী এই পথে চলাচল করা মানুষদের।

গতকাল সরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও জরুরি সেবা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা ছিল। তুমুল বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে অফিসগামীসহ জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মূল সড়ক থেকে ফুটপাত দিয়ে পানি মারিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষকে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভাঙা সড়কের কারণে বিপাকে পড়তে হয়ে মানুষকে।

কালশী এলাকার বাসিন্দা তানজিদ ভূঁইয়া বলেন, সকাল ৮টায় বাসা থেকে বের হয়েছি অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কালশী রোডে পানি জমে গেছে। এই রোডে ১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পানি জমে ছিল। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হেঁটে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু রাস্তায় কোমর সমান পানি। কোথাও কোথাও বুক সমান পানি জমেছে।

মিরপুরের বাসিন্দা মুশফিকুর রহমান বলেন, পূর্ব কাজীপাড়া থেকে বের হয়ে মেট্রো স্টেশনের নিচ পর্যন্ত রাস্তায় হাঁটু পানি জমে গিয়েছিল। মেইন রোডে পানির পরিমাণ আরও বেশি। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের অর্ধেকেরও বেশি ডুবে যায় পানিতে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের চারপাশেও হাঁটু পানি। ১০ নম্বর থেকে ১৪ ও ২ নম্বরের দিকে যাওয়ার রাস্তাও তলিয়ে গেছে।

মিরপুর-১০ থেকে ফার্মগেট যাচ্ছিলেন রাকিব হোসেন নামে এক চাকরিজীবী। সড়কে পানি জমে যাওয়ায় বাসা থেকে জুতা হাতে নিয়ে মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত আসতে হয় তাকে। রাকিব বলেন, বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে যাওয়ায় অনেক কষ্ট হচ্ছে অফিসে যেতে। সড়কে পানি জমে থাকার কারণে বাস এগোচ্ছেই না। দুপুর ১২টা পর্যন্ত পানি সরেনি।

নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন জানান, এই এলাকায় কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ফলে পানি সরতে পারছে না। এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ির জন্য অসংখ্য খানাখন্দে ভরা পুরো সড়ক। ফলে কাদাপানিতে এই সড়কে চলাচল খুব কষ্টকর হয়ে যায়।

ভাটারা এলাকার বাসিন্দা বাবু মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা একটা বড় সমস্যা। ভাঙা সড়ক দিয়ে চলা সম্ভব হলেও জলাবদ্ধতার সময় ড্রেনের ময়লা আর বৃষ্টির পানি একাকার হয়ে যাওয়ায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বাসা থেকেই বের হওয়া যায় না। অলিগলিতে ড্রেনের কাজ চলমান থাকলেও কোনো সুফল এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।

বাসচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন সকালে যত যাত্রী পাই আজ অত নেই। রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরেই বর্ষা মৌসুম রাজধানীবাসীর জন্য এক আতঙ্ক। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানির নিচে থাকে রাজধানীর অনেক সড়ক। এবার বর্ষা মৌসুম এখনো শুরু না হলেও মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে অনেক সড়কে পানি জমে গেছে। এই জলাবদ্ধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে নানা আলোচনা ও সমালোচনা করতে দেখা গেছে নগরবাসীকে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সমালোচকদের তীরে বিদ্ধ রোনালদোর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন বোন

নিউইয়র্কের রাস্তায় ‘অচেনা’ পর্যটক বেশে বিশ্বকাপে ঝড় তোলা হালান্ড!

নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৩৫

বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জামায়াতের মামলা

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষ, নিহত বেড়ে ৩

কোরিয়াকে হারিয়ে সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো

বিশ্বকাপের পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনার অবস্থান কত?

দ্বিতীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনা একাদশে বড় পরিবর্তনের আভাস

রয়টার্সের বিশ্লেষণ / মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ, উদ্বিগ্ন ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো

চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্প মরিয়া ছিলেন, দাবি মোজতবা খামেনির

১০

দেশের বাজারে আজ স্বর্ণের দাম কত?

১১

যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি লঙ্ঘন করলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

১২

মারাত্মক ট্যাকলে পা ভেঙে ছাড়লেন মাঠ, খেলোয়াড়ের আর্তনাদে কাঁদল স্টেডিয়াম

১৩

৩৩ টন সরকারি চালসহ গোডাউন মালিক আটক

১৪

সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট, হোয়াইট হাউসের নতুন ঘোষণা

১৫

যুবদল নেতাকে বেধড়ক মারধর, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে অব্যাহতি

১৬

মেসির বাবার মৃত্যুর গুঞ্জন, বিপর্যস্ত আর্জেন্টাইন তারকা

১৭

কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন যুবদল কর্মীর মৃত্যু

১৮

শেষ ২৩ মিনিটে ৫ গোলের ঝড়, বসনিয়াকে উড়িয়ে দিল সুইজারল্যান্ড

১৯

বিএনপির দুগ্রুপের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৫

২০
X