

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য এসএকে একরামুজ্জামান দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্দেশক্রমে তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একরামুজ্জামান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও পরে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। গত ৮ জানুয়ারি এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা জানান।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘২০০৪ সাল থেকে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমি বিএনপির পতাকাতলে ছিলাম। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সম্মানে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে দাখিলকৃত আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আপনাদের নিকট দোয়া প্রার্থী এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে আপনাদের পাশে যেন থাকতে পারি।’
উল্লেখ্য, আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একরামুজ্জামান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নবম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ে পরাজিত হলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে ৮৯ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন একরামুজ্জামান।
পরে ২০২৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। একই বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে একরামুজ্জামানকে উপদেষ্টা করা হয়।
২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একরামুরজ্জামানের বিরুদ্ধে নাসিরনগর ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়।
মন্তব্য করুন