

রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের উল্টোপথে প্রাইভেটকার নিয়ে প্রবেশ করছিলেন এক নারী। তখন নিরাপত্তাকর্মীরা সেটি আটকে দিলে গাড়ি থেকে নেমে আসেন ওই নারী। উত্তেজিত কণ্ঠে নিজেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি বিভাগের উপকমিশনারের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তবুও এক নিরাপত্তাকর্মী গাড়ি আটকে দিলে ক্ষিপ্ত নারী তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এরপর বলতে থাকেন, আমি ডিসির ওয়াইফ, নিয়ম মানতে হয় না, দেশে নিয়ম আছে নাকি? এর পরই তিনি বীরদর্পে ওই শপিংমল থেকে বের হওয়ার সড়ক দিয়ে উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে ভেতরে ঢোকেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গাড়িটিতে পুলিশ লেখা ছিল না। বিকেল ৩টার দিকে গাড়িটি বের হওয়ার সড়ক দিয়ে ভেতরে ঢোকে। তখন নিরাপত্তাকর্মী আজাদ গাড়িটি থামান। এরপর ডিসির স্ত্রী পরিচয় দেওয়া নারী উত্তেজিত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে আসেন। তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আজাদ তখন বলেন, ম্যাডাম গাড়িটি উল্টোপথে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তা ছাড়া গাড়িটি যাওয়ার সুযোগ দিলে ঊর্ধ্বতনরা তার চাকরি খেয়ে দিতে পারেন। তাকে বারবারই নিয়ম মেনে ভেতরে প্রবেশের অনুরোধ করা হয়। এতে ওই নারী আরও বেশি ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মী আজাদকে চড় মারেন। দম্ভ করেই বলতে থাকেন, তিনি ডিসির স্ত্রী, তাকে আইন মানতে হয় না।
যমুনা ফিউচার পার্কের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ঘটনা সেখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয় দেওয়া ওই নারী শপিংমলে কেনাকাটা শেষে বেরিয়ে কার্নিভালে অপেক্ষা করছিলেন গাড়ির জন্য। কিন্তু তার চালক তখন নিয়ম অনুযায়ী ড্রপ পয়েন্টে অপেক্ষা করছিলেন। তখন চালককে গালাগাল করে তিনি গাড়ি সামনে আনতে বলেন। চালক তা করলে নারী নিরাপত্তাকর্মী ফাতেমা তাতে বাধা দেন। তাকে জানানো হয় যে, কার্নিভালের সামনে গাড়ি থামানো যাবে না। তখন আরও ক্ষিপ্ত হন ওই নারী।
গালি দিয়ে বলতে থাকেন, ‘চিনিস না, আমি বলছি তো ডিসির ওয়াইফ।’ এ কথা বলেই নারী নিরাপত্তাকর্মীকে তিনি চড়-থাপ্পড় দিতে থাকেন। ওই সময়ে সেখানে ভিড় শুরু হয়। তখন ওই নারী গাড়িতে উঠে ফের উল্টোপথ দিয়েই (প্রবেশপথ) বের হয়ে যান।
যমুনা ফিউচার পার্কের নিরাপত্তা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মেজর (অব.) নজরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, এমন বিব্রতকর ঘটনা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। দুজন নিরাপত্তাকর্মীকে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার পরও ম্যাডামকে বলা হয় নিরাপত্তাকর্মীরা ভুল করলে শাস্তি দেওয়া হবে। এজন্য তাকে নিজের পরিচয় দিয়ে অফিসে চায়ের নিমন্ত্রণ করা হয়। তবে তিনি তখনো দুর্ব্যবহার করছিলেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, পুরো বিষয়টি যমুনা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরে অবশ্য ঘটনার জন্য ম্যাডামের পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।