স্বপন চন্দ্র দাস, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:৩৪ এএম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:২৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

সুস্থ মানুষও হয়ে যায় অসুস্থ

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল
সুস্থ মানুষও হয়ে যায় অসুস্থ

হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই চোখে পড়ে নিচে জমা পানি। আটকে রয়েছে ধুলাবালুসহ আবর্জনাও। সিঁড়িতে যেদিকে চোখ যায়, সেখানে দেখা যায় পানের পিক, রোগীর রক্ত, কলার খোসা, নোংরা কাপড়, পলিথিন ইত্যাদি। পাঁচতলায় মেডিসিন (নারী) ওয়ার্ডের ব্যালকনিতে গিয়ে মনে হয়, এটা যেন আবর্জনার ভাগাড়। প্রতিটি বেডের নিচে ধুলা-ময়লা জমে রয়েছে। একই অবস্থা চার তলায় পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডেও। গতকাল শনিবার সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে গেলে এমন চিত্র দেখা যায়। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকদিন ধরে পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেটগুলো আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। এ ছাড়া বেডের ওপরে ও নিচে শতশত তেলাপোকার উপদ্রব রোগীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাবার, কাপড়-চোপড় যেখানেই রাখা হয়, সেখানে ঢুকে পড়ে তেলাপোকা।

প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ত্যক্ত রোগী ও তার স্বজনরা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কোনো সুরাহা মিলছে না।

পাভেল নামে সার্জারি ওয়ার্ডের ক্ষুব্ধ এক রোগী বলেন, ‘এইডা কি কুনো হাসপাতাল? এইহ্যানে ভালো মানুষ আইস্যাই তো রোগী অইয়্যা যাইব। দুই দিন ধইর্যা আছি, এ্যাহন পর্যন্ত হাসপাতালের ফ্লোর পরিষ্কার করতে দেহি নাই। বাথরুমে পানি নাই, ফ্যানগুলো ঠিকমতো ঘুরে না।’

একই ওয়ার্ডে পায়ে ইনফেকশন নিয়ে ভর্তি রয়েছেন শহরের দিয়ার ধানগড়া মহল্লার বাবু সেখ। তিনি বলেন, ১৪ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি, ডাক্তার ভালো করে দেখেন না। ইন্টার্নি ডাক্তার আর মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্টরা দেখেন। বিছানার চাঁদর নোংরা, ১৪ দিনে একবারও বদলানো হয়নি।

কথা হয় পাইকোশা গ্রামের নুরুল আমিন, ঘুড়কা বেলতলা এলাকার সজল, শান্তনা, হোসেনপুর মহল্লার জোবেদাসহ মেডিসিন ও সার্জারি ওয়ার্ডের বেশ কয়েক রোগীর সঙ্গে।

তাদের দাবি, এই হাসপাতালে এসে ভুল করেছেন। এমন নোংরা জঘন্য হাসপাতালে সুস্থ হওয়া দূরে থাক—রোগ আরও বেড়ে যাবে। প্রতিটি বেডের নিচে অসংখ্য তেলাপোকা যেন দেখার কেউ নেই। খাবার খেতে বসলে তেলাপোকাও হানা দেয়। হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, লোকবল সংকটের কারণে হাসপাতাল পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।

তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার বলেন, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে বর্তমানে রোগী রয়েছে ৩২১ জন। অতিরিক্ত রোগী বারান্দা ও ফ্লোরে ভর্তি করে রাখা হয়েছে। এখানে আউটসোর্সিংয়ে রাজস্ব খাতে ৩৪ ও উন্নয়ন খাতে ২৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু গত জুন মাসে এদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন করে এখনো টেন্ডার হয়নি। আমরা অধিদপ্তরে লিখে পাঠিয়েছি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে হাসপাতালটি এখন নোংরা রয়েছে বলে স্বীকার করেন।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসলামি সোশ্যাল মিডিয়া ‘আলফাফা’য় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ

পদত্যাগের পর যা বললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

রাজশাহীতে পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে অভিজিৎ দিপকের প্রতিক্রিয়া

বহিষ্কার হলেন খিলক্ষেত থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান

এইচএসসির ৫ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

চনপাড়াকে স্থায়ীকরণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিপু ভূঁইয়ার

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হাতুড়িপেটা করল সন্ত্রাসীরা

১০

রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলা রাশিয়া-ইউক্রেনের

১১

পর্যটকদের ভিসামুক্ত থাকার মেয়াদ কমাতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড

১২

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে, সেটি নির্ধারণের প্রক্রিয়া জানালেন মির্জা ফখরুল

১৩

ঝালকাঠিতে মাদকসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

১৪

সাত মাসে সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় ১০৮ জনের মৃত্যু

১৫

পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে ভারতজুড়ে নীরব মোমবাতি মিছিলের ডাক সিজেপির

১৬

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী

১৭

মানবাধিকার ইস্যুতে ইইউর অবস্থানকে ‘ভণ্ডামি’ বলল ইরান

১৮

শিশু ইসরাফিলের চিকিৎসায় প্রয়োজন ১০ লাখ টাকা

১৯

জুলাই অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল: শামসুজ্জামান দুদু

২০
X